বালুবোঝাই বলগেটের ধাক্কায় নড়াইলের কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘কালিয়া সেতুর’ একটি পাইল-পিলার ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। গত রবিবার রাতে ঘটেছে ঐ পিলার ভেঙে পড়ার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ডেপুটি প্রোজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সেতুটি নির্মাণে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রকৌশলী মিনহাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর নবম পাইল পিলারটি (চারটি খুঁটি) গত বছর একটি বালুবোঝাই বলগেটের ধাক্কায় হেলে পড়ে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তমতে সেটিকে সোজা করে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু গত রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি বালুবোঝাই বলগেট ঐ পাইল পিলারে আবার ধাক্কা দিলে সেটি উপড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলগেটটি পালিয়ে যায়। গত সোমবার ঘটনাটি তিনি নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেছেন, ঘটনাটি বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে সেতুটি নতুন আঙ্গিকে দ্রুততার সঙ্গে নির্মাণ করা হবে।
নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকের সভায় নড়াইল-কালিয়া সড়কের নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৪ টাকা ব্যয়ে ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ হাতে নেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। দাপ্তরিক কাজ শেষে মো. জামিল ইকবাল ও মো. মঈন উদ্দি বাশী নামক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার কথা। কিন্তু নকশার জটিলতা ও করোনাকালের দোহাই দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বলে বছর বছর তারা নির্মাণকাজের সময়সীমা বৃদ্ধি করে। এভাবে গত তিন বছরেও সেতুর কাজ শেষ না করতে পেরে আবারও তারা একইভাবে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আরো এক বছর কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছে।
