এক মালঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের স্মৃতিগাঁথা কয়েকটি স্মৃতিসৌধ। এ সব স্মৃতিসৌধের তাত্পর্য বোঝার জন্য দেশের প্রথম মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ চত্বর। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর লাল সবুজের গালিচায় কৃষ্ণচূড়ার ডালের মনোমুগ্ধ পরিবেশের নিচে বাংলাদেশ চত্বর নামে ফুটিয়ে তুলেছেন বায়ান্ন, একাত্তর ও পঁচাত্তর। দৃষ্টিনন্দন এ চিত্র দেখতে এখন প্রতিদিন মানুষ ভিড় জমায় সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদে। উপজেলার অডিটোরিয়ামের পাশে ১৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট বিশাল জায়গা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ চত্বর। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে এ চত্বর। সাটুরিয়া উপজেলা তোরণ দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই হাতের ডানে সবুজ গালিচায় বাহারি ফুলের ছন্দদোলায় মাথা উঁচু করে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ চত্বর। দৃষ্টিনন্দন এ মহতী স্থাপনা একই মালঞ্চে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনিপুুণ সফলতার সঙ্গে সুসম্পন্ন করতে যারা নিরলস ভূমিকা রেখেছেন তন্মধ্যে অন্যতম সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো, ইউএনও আশরাফুল আলম ও প্রকৌশলী এ এফ এম তৈয়বুর রহমান।
উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক, প্রভাষক সমরেন্দু সাহা লাহোর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের শেকড় সন্ধানে অনিবার্যভাবে যা সামনে আসে তা হলো ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ত্যাগে সংকল্পে এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই ত্রয়ী ঐতিহাসিক ও গৌরবদীপ্ত নিদর্শন শহিদ মিনার, স্বাধীনতা স্তম্ভ এবং বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল একই মালঞ্চে শিল্প-সুষমায় ও কারুকৃত্যে প্রস্ফুটিত হয়েছে সাটুরিয়া উপজেলায়। সে স্থাপনাটির নাম বাংলাদেশ চত্বর।
ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই তো আমাদের বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে পরস্ফুিটন ঘটেছে পঁচিশে মার্চের বিভত্স কলঙ্কিত রাত আর সেই সঙ্গে রক্তিম সূর্যের আলোর ঝলকানিতে সোনালি স্বপ্নরশ্মি। বাংলাদেশের আর কোথাও এমন কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে কি না, আমাদের জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, এই চত্বর দেখে যেন নতুন প্রজম্ম বাংলাদেশের রক্তরঞ্জিত ইতিহাস দেখে অনুধাবন করতে পারে স্বাধীনতার মূল্য এবং সেই অনুযায়ী যেন সোনার বাংলা বিনির্মাণে তারা অগ্রসৈনিক হতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো বলেন, এক মালঞ্চে তিনটি ইতিহাস একসঙ্গে ধারণ করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশকে।
