নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে কারো প্রাণহানি হয়নি। এদিকে সরকারি হাসপাতালের হিসাবের বাইরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিক ও চিকিত্সকের পরামর্শে ঢাকার হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দুই জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এর মধ্যে এক জন নারী ও এক জন পুরুষ। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা করতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চার বেডের একটি ওয়ার্ড ও চার উপজেলার হাসপাতালে দুটি করে বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ডেঙ্গু রোগীর চিকিত্সার জন্য সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রকোপ কমাতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের এক যোগে কাজ করতে হবে। তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়াতে পারবে না। তবে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনে নাসিকের উদাসীনতাই দায়ী বলে মনে করেন নগরবাসী। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। মশার যন্ত্রণায় শহরের মানুষ অতিষ্ঠ থাকলেও মশা নিধনের ব্যাপারে কিংবা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে সিটি করপোরেশনের। তাই করোনার মধ্যেই ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে।
দেওভোগ, বাবুরাইল, খানপুর, নিতাইগঞ্জ, মিশনপাড়া, চাষাঢ়া, বন্দরের সোনাকান্দা, নবীগঞ্জ, কদমরসুল, মদনগঞ্জ, হরীপুর, কুড়িপাড়া, রামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে, মানুষ দিনের বেলায় ঘরে বসে থাকতে পারে না।
আর সন্ধ্যা হলেই মশা মানুষকে কামড়িয়ে অতিষ্ঠ করে তোলে। এতে করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো করোনা রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তার ওপর ডেঙ্গু রোগী নিয়ে তারা বেকায়দায় পড়েছে। রোগীরা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত চিকিত্সা। এমন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেন-থ্রি সেরোটাইপের কারণেই ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহতা। যা আগের মৌসুমগুলোতে খুব একট দেখা যায়নি।
