‘পরীমনির ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:১৮

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শিল্পী-সাহিত্যিক ও নাট্যকর্মীরা। তারা বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে এ ধরনের ঘটনা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের অধীনে এটি ঘটলে বিস্ময়ের কারণ ছিল না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শিল্পীর প্রতি সব ধরনের অন্যায় আচরণ বন্ধের দাবিতে ‘শিল্পীর পাশে’ নামের একটি প্ল্যাটফরম এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাটক-গান-কবিতা ও ছবি এঁকে শিল্পীর প্রতি অন্যায় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রতিবাদ জানানো হয়।

কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা চলচ্চিত্রকার মোস্তফা মনন। লিখিত বক্তব্যে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যুক্তিসঙ্গত। অনন্তকাল এই বিদ্রোহ চলবে। আমরা বেদনার সঙ্গে দেখছি, শিল্পীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, অবহেলা করা হয়। আমাদের সরকারগুলো শিল্পীদের প্রকৃত অর্থে কোনো মূল্যায়ন করেনি, পাশে দাঁড়ায়নি।

সমাবেশে টেলিফোনে যুক্ত হন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, সম্প্রতি অভিনেত্রী পরীমনিকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ বলেন, শিল্পীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা সঙ্গীতা প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্বটা কী? কেন তারা এক জন শিল্পীর পাশে দাঁড়াল না? অপরাধ প্রমাণের আগেই কেন তার (পরীমনি) সদস্যপদ স্থগিত করা হলো? তাদের কাজটা কী?

সমাবেশে ফোনে যুক্ত হন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও খুশী কবির। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক এস এম মাসুম বিল্লাহ, লেখক স্বকৃত নোমান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান, গৌরব ৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন, সমগীতের সদস্য বিথী ঘোষ, অভিনয়শিল্পী ঋতু সাত্তার প্রমুখ।