মো. আবু হানিফ, শেকৃবি সংবাদদাতা
বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে প্রায় আঠারো মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে সব শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানোর লক্ষ্যে অনলাইন ক্লাস ও ধাপে ধাপে পরীক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে তৃতীয় ধাপে অনলাইনে চারটি অনুষদের ১০টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে।
জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা সশরীরে সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চলমান ছিল। পরবর্তী সময়ে সব অনুষদের চূড়ান্ত পরীক্ষাও অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শেকৃবি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা ও ক্লাস গ্রহণের রূপরেখা প্রণয়নের জন্য সিন্ডিকেটের ৯৪তম বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. অলোক কুমার পালকে সদস্য-সচিব করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য অধ্যাপক এ এম এম শামসুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। অনলাইন পরীক্ষার প্রথম ধাপে জুন মাসের ২৭ তারিখ কৃষি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১; এর ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। এটি সফলভাবে শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ চারটি অনুষদের পাঁচটি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা একযোগে নেওয়া শুরু হয়। এ পরীক্ষায় অনুষদসমূহের মোট ৫২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রতি ২৫ জন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে মনিটরিং করার জন্য একজন শিক্ষক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘কয়েকটি সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হলেও অনেকদিন পরীক্ষা আটকে থাকায় হতাশা কাজ করছিল। অনলাইনে পরীক্ষা হওয়ায় হতাশা কিছুটা দূর হয়েছে। সেশনজটও অনেকাংশে কমে আসবে।আশা করি দ্রুত সশরীরে ক্লাসরুমে ফিরতে পারব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আলোক কুমার পাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনার মধ্যেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার চেষ্টা করছি। আমরা সশরীরে এ বছরের শুরুতে একটি ব্যাচের পরীক্ষা নিয়েছি। এরপরে দুই ধাপে অনলাইন পরীক্ষা নিয়েছি। তৃতীয় ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী সপ্তাহেই একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে। এছাড়াও আমাদের স্নাতকোত্তরের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে চলছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের প্রায় তিনটি সেমিস্টারের ক্লাস শেষ করেছি। অনলাইনে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিচ্ছি। শিগিগরই প্রতিটি অনুষদের দুইটি করে ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে আমরা সর্বাত্মকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।’
