দেশে তালেবানি সংস্কৃতির প্রভাব প্রতিহতের আহ্বান

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৮

নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ইসলামের দোহাই দিয়ে যে মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ’৭১-এর গণহত্যা ও নারী ধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছিল, তারাই ’৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মৌলবাদীকরণ ও পাকিস্তানীকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তা বার বার তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরই রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরসূরি হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের তালেবান, আলকায়দা ও আইএস। ২৫ বছর আগে আফগানিস্তানে তালেবানরা প্রথমবার ক্ষমতা দখল করে সংগীত, নৃত্য, নাটক, চিত্রকলা চলচ্চিত্র সবকিছু নিষিদ্ধ করেছিল। নারীদের গৃহবন্দি করেছিল। অথচ এই আফগানিস্তানই জন্ম দিয়েছে হজরত জালালউদ্দিন রুমির মতো সংগীত ও নৃত্যপ্রেমী সুফি সাধককে।

গতকাল বুধবার ‘মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াড এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

প্রধান বক্তা নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, জঙ্গি মৌলবাদীরা ওয়াজ ও সালানা জলসার নামে মাঠে-ময়দানে যেমন, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত ও ভিন্ন জীবনধারায় মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার করছে। সমাজে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টি করতে চাইছে, তালেবানদের মতো বিনোদনের সব অভিব্যক্তি নিষিদ্ধ করতে চাইছে। সুযোগ পেলেই তারা সংস্কৃতিকর্মী, বিশেষভাবে বাউলদের ওপর হামলা করছে এই বলে যে, ইসলামে গান-বাজনা হারাম। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে তালেবানি সংস্কৃতির প্রভাব প্রতিহত না করলে আমাদের অবস্থাও একদিন আফগানিস্তানের মতো হতে পারে।

নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করেছিল কিন্তু সংস্কৃতিকর্মীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ঠিক এমনিভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতারের সংস্কৃতিকর্মীরা এই অপপ্রচারের দাঁত ভাঙা জবাব দিয়েছিলেন।

লালন সংগীত সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। সেই মানুষ কেন একজন আরেক জনের সংস্কৃতিকে হরণ করবে? সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি বাউলদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি কেন হবে?

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বেশ কিছু যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন হয়েছে কি?