ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঘুষের বিনিময়ে পাসপোর্ট প্রদান এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ ও উপপরিচালক রাজ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উল্লেখ্য, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে এবং উপপরিচালক রাজ আহমেদ পাসপোর্টের উত্তরা অফিসে ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করছেন।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগের ব্যাপারে কমিশন সূত্র জানায়, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে পাসপোর্ট প্রদান এবং বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, যে তালিকায় ঐ দুই কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
এদিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আবু সাঈদ সাংবাদিকদের বলেন, এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই যে কী ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে। আসলে আমার বিরুদ্ধে অনিয়মের সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগের আসলে কোনো ভিত্তি নেই। তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কমিশন বিভিন্ন রকম অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করছে।
প্রসঙ্গত, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এর আগে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আরো বেশ কয়েক জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মহের উদ্দিন শেখ, আরেক উপপরিচালক হালিমা খাতুন শম্পার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা। এছাড়া সর্বশেষ সাড়ে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন পৃথক দুই মামলা করে দুদক।
