স্পোর্টস রিপোর্টার
শুরুটা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে, ২-১ এ সিরিজ জিতে ফিরেছিল বাংলাদেশ দল। পরে ঘরের মাঠে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামিয়েছিল টাইগাররা। অজিদের বিরুদ্ধে টি-২০ তে প্রথমবার ৪-১ এ সিরিজ জিতেছিল। ঘরের মাঠে জয়ের ছক বদলায়নি। জয়ের একই ‘ব্লু প্রিন্ট’ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সফল হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
মিরপুর স্টেডিয়ামের স্লো, লো উইকেটে দারুণ মানিয়ে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তাই তুলনামূলকভাবে বেশি সংগ্রাম করতে হলেও গতকাল কিউইদের প্রথমবার টি-২০ সিরিজ হারানোর স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ফরম্যাটে টানা তিন সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে টাইগাররা। গতকাল সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। সিরিজের স্কোরলাইন এখন ৩-১।
দিনের আলোয় নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানের ছোবলে ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। পরে কিউই বোলাররাও পালটা চ্যালেঞ্জ জানালেন বাংলাদেশকে। ৩২ রানে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে গভীর চাপে ফেলেন স্বাগতিকদের। সাকিব-মুশফিকরা সাজঘরে ফিরলেও ওপেনার নাঈম শেখকে নিয়ে ইনিংস বিনির্মাণের কাজ শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ।
তারা ৩৫ রানের জুটি গড়েন। তাতেই কার্যত জয়ের পথ সুগম হয়। নাঈম শেখ ২৯ রান করে রানআউট হন। কিউইদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান-বলের চাপটা অব্যাহত ছিল। আফিফকে নিয়ে শেষের পথটা পাড়ি দেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১ রান। ১৯তম ওভারে ম্যাকনকিকে ছক্কা মেরে সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটান মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারের প্রথম বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৪৮ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ক্যাপ্টেনস নক উপহার দেন তিনি। ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ২টি ছয়।
উইকেট অনুযায়ী শান্ত থাকা, সিঙ্গেলসের ওপর খেলার যে মন্ত্র এখানে পরীক্ষিত, তার সফল বাস্তবায়নই করেছেন মাহমুদউল্লাহ। সিরিজ জুড়েই তার ব্যাট টানছে দলকে। চার ম্যাচে ৯৭ রান করেছেন তিনি। যেখানে সাকিব-মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের কাছে প্রত্যাশিত সার্ভিস পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
অবশ্য গতকাল সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব সতীর্থ ও টিম ম্যানেজমেন্টকেই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব টিম ম্যানেজমেন্ট ও ছেলেদের। আরো একটা ম্যাচ রয়েছে এবং ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করব।’
অপরাজিত ৪৩ রান করলেও মাহমুদউল্লাহ নন ম্যাচ সেরা হয়েছেন ১০ রানে ৪ উইকেট পাওয়া নাসুম। বাংলাদেশ অধিনায়কও প্রশংসা করেছেন বোলারদের। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘বোলাররা আবারও তাদের কাজটা করেছে নিউজিল্যান্ডকে কম রানে আটকে রেখে। নাসুম, মেহেদী, মুস্তাফিজ ভালো বোলিং করেছে। আমাদের দরকার ছিল একটা ভালো জুটি, আমি ও নাঈম সেটাই চেষ্টা করেছি।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ভেন্যুতে
৫০০ এর বেশি রান করা ব্যাটসম্যান
ভেন্যু ব্যাটসম্যান রান
ঢাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬৬৫
অকল্যান্ড মার্টিন গাপটিল ৬২৬
ঢাকা সাকিব আল হাসান ৫০৭
সাকিবই একমাত্র খেলোয়াড় যার এক ভেন্যুতে ৫০০’র বেশি রান ও ২০’এর বেশি উইকেট আছে।
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, ৪র্থ টি-টোয়েন্টি
টস : নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড রান বল ৪ ৬
রবীন্দ্র ক সাইফউদ্দিন ব নাসুম ০ ৫ ০ ০
অ্যালেন কসাইফউদ্দিন ব নাসুম ১২ ৮ ০ ১
ল্যাথাম স্টা সোহান ব মেহেদী ২১ ২৬ ১ ০
ইয়াং ক মাহমুদউল্লাহ ব মুস্তাফিজ ৪৬ ৪৮ ৫ ১
নিকোলস ব নাসুম ১ ৫ ০ ০
গ্র্যান্ডহোম ক সোহান ব নাসুম ০ ১ ০ ০
ব্লান্ডেল ক নাঈম ব মুস্তাফিজ ৪ ১০ ০ ০
ম্যাকনকি ক অ্যান্ড ব মুস্তাফিজ ০ ৩ ০ ০
প্যাটেল ব সাইফউদ্দিন ৪ ৮ ০ ০
টিকনার ক মেহেদী ব মুস্তাফিজ ২ ৩ ০ ০
বেনেট অপরাজিত ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা ২, ও ১) ৩
মোট (১৯.৩ ওভার, অলআউট) ৯৩
উইকেট পতন : ১-০ (রবীন্দ্র, ০.৫ ওভার), ২-১৬ (অ্যালেন, ২.৪), ৩-৫১ (ল্যাথাম, ১০.৩), ৪-৫২ (নিকোলস, ১১.২), ৫-৫২ (গ্র্যান্ডহোম, ১১.৩), ৬-৭২ (ব্লান্ডেল, ১৫.২), ৭-৭৪ (ম্যাকনকি, ১৬), ৮-৯১ (প্যাটেল ১৮.৫), ৯-৯৩ (ইয়াং, ১৯.২), ১০-৯৩ (টিকনার, ১৯.৩)।
বোলিং: নাসুম ৪-২-১০-৪, সাকিব ৪-০-২৫-০, মেহেদী ৪-০-২১-১, মুস্তাফিজ ৩.৩-০-১২-৪, সাইফউদ্দিন ৩-০-১৬-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০।
বাংলাদেশ
নাঈম রান আউট ২৯ ৩৫ ১ ১
লিটন ক অ্যালেন ব ম্যাকনকি ৬ ১১ ১ ০
সাকিব স্টা ল্যাথাম ব প্যাটেল ৮ ৮ ১ ০
মুশফিক ব প্যাটেল ০ ৩ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৪৩ ৪৮ ১ ২
আফিফ অপরাজিত ৬ ১০ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা ২, ও ২) ৪
মোট (১৯.১ ওভার, ৪ উইকেট) ৯৬
উইকেট পতন: ১-৮ (লিটন, ২.২), ২-৩২ (সাকিব, ৫.৩), ৩-৩২ (মুশফিক, ৬), ৪-৬৭ (নাঈম, ১৪.৩)।
বোলিং: বেনেট ৩-০-১৭-০, প্যাটেল ৪-০-৯-২, ম্যাকনকি ৩.১-০-৩৪-১, রবীন্দ্র ৪-০-৮-০, গ্র্যান্ডহোম ৩-০-১৩-০, টিকনার ২-০-১৩-০।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: নাসুম আহমেদ।
