হতদরিদ্র চার গৃহিণীর নামে আয়কর পরিশোধের নোটিশ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৫

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চার জন হতদরিদ্র গৃহিণীর নামে আয়কর পরিশোধের নোটিশ আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্ত গৃহিণীরা হলেন মাহিলাড়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ গ্রামের ভ্যান চালক কবির ইসলাম বেপারির স্ত্রী  কল্পনা বেগম, মাহেন্দ্রা চালক ফারুক হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম, দিনমজুর মহসিন বেপারীর স্ত্রী সুবর্ণা মোহসিন ও বিল্বগ্রাম এলাকার দিনমজুর চানমিয়া সরদারের স্ত্রী গৃহিণী মনোয়ারা বেগম। গৃহিণী কল্পনা, সেলিনা ও সুবর্ণা একই পরিবারের আপন তিন ভাইয়ের স্ত্রী। নোটিশে তাদের গ্রাম মাহিলাড়া উল্লেখ করা হলেও তারা তিন জনই শরিফাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। এরমধ্যে কল্পনা বেগম ও সুবর্ণা মোহসিনের নামে গত ২৮ জুলাই, সেলিনা বেগমের নামে ২২ আগস্ট এবং মনোয়ারা বেগমের নামে ২৪ আগস্ট বরিশাল উপ-কর কমিশনার কার্যালয়ের (বৈতনিক) শাখা থেকে উপ-কর কমিশনার স্বাক্ষরিত নোটিশগুলো ইস্যু করা হয়।

নোটিশে কল্পনা বেগম ও সুবর্ণা মহসিনকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ সালের ১২৪ ধারায় কেন জরিমানা করা হইবে না তাহার কারণ দর্শানোর জন্য ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৩০ ধারায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া মনোয়ারা বেগমকে কেন জরিমানা করা হইবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর একই ধারায় নির্দেশ দেওয়া হয়। সেলিনা বেগমকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গৃহিণী সুবর্ণা মোহসিন জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। তাদের পরিবারে দুটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। শুধু বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি তাদের নেই। অথচ তাকে আয়কর পরিশোধ করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গৃহিণী কল্পনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন ভ্যান চালক। এমন কোনো সম্পদ তাদের নেই যে তার নামে আয়কর পরিশোধের জন্য সরকারি চিঠি ইস্যু করতে হবে। একই কথা জানান, বিল্বগ্রাম এলাকার দিনমজুর চান মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। 

গৃহিণী সেলিনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন মাহেন্দ্রা চালক। অথচ তার নামে আয়কর পরিশোধের জন্য নোটিশ করা হয়েছে। এমনকি সেলিনা আয়কর পরিশোধ না করায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে মর্মে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, তার ইউনিয়নের আয়কর পরিশোধের জন্য নোটিশপ্রাপ্ত চার জন নারী হতদরিদ্র। এরমধ্যে  সুবর্ণা মোহসিন এবং সেলিনা বেগমের স্বামীর নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর দুজন গৃহিণীর স্বামী দিনমজুর। তাদেরকেও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয়। হতদরিদ্র পরিবার চারটিকে আয়করের আওতামুক্ত করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে উপ-কর কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। পরিবার চারটিকে আয়কর থেকে অবমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার সদর দপ্তর (প্রশাসন) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, যদি কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে ই-টিআইএন গ্রহণ করেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে আয়করের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এ ক্ষেত্রে ঐ চার জনের আইডি ব্যবহার করে কেউ হয়তো আয়কর প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ফলে তাদেরকে কর রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আর নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে ন্যূনতম জরিমানা ৫ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, ঐ চার জন কিংবা চার জনের মধ্যে যে কেউ একজন অফিসে কাগজপত্র নিয়ে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।