কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার সুবর্ণপুর গ্রামের পল্লিচিকিত্সক সৈয়দ বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী সফুরা খাতুনকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তাদের পুত্রবধূ নাজমুন নাহার চৌধুরী ওরফে শিউলি এবং তার খালাতো ভাই জহিরুল ইসলাম ওরফে সানি ও তার সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে তুহিন। গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান ঊর্মির আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘাতকরা মুষলধারে বৃষ্টি ও বিদ্যুত্হীন রাতে এই জোড়া খুনের ঘটনা সংঘটিত করেছে বলে লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। একটানা প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী তিন আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালতের বিচারক।
এদিকে নিহতদের লাশ ঘটনার তিন দিন পর বুধবার বিকালে স্থানীয় সুবর্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আদর্শ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শরিক হয়। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসী নিহতদের পুত্রবধূ শিউলির পরকীয়ার কারণে এমন জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তাদের পুত্রবধূসহ তিন ঘাতকের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জবানবন্দি নেওয়া শুরু করেন। টানা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জবানবন্দিতে আসামিরা যেভাবে জোড়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে এর বর্ণনা দেন। আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়া কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রাজীব চক্রবর্তী জানান, প্রথমে জবানবন্দি দেন নিহতদের পুত্রবধূ নাজমুন নাহার চৌধুরী ওরফে শিউলি। এরপর শিউলির খালাতো ভাই জহিরুল ইসলাম মজুমদার ওরফে সানি এবং সবশেষ সানির বন্ধু মেহেদী হাসান ওরফে তুহিন জবানবন্দি দেন। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। প্রথমে তারা ওড়না দিয়ে নাক-মুখ চেপে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে পল্লিচিকিত্সক সৈয়দ বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী সফুরা খাতুনকে ও পরে বাড়ি ফেরার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিল্লাল হোসেনকে একই কায়দায় হত্যার পর বিছানায় লাশ ফেলে আসবাবপত্র তছনছ করে ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহীম আসামিদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত সৈয়দ বিল্লাল হোসেনের বড় ছেলে দুবাই প্রবাসী সৈয়দ আমান উল্লাহর স্ত্রী শিউলি একাধিক পরকীয়ায় জড়িত। এসব বিষয় ও পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
