আগৈলঝাড়ায় হরিণ হত্যার অভিযোগে এনজিওর পরিচালক গ্রেফতার

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৮

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অবৈধভাবে বিপন্ন প্রজাতির চিত্রা হরিণ হত্যা ও মাংস-চামড়া বিক্রির অভিযোগে আলোশিখা নামে একটি এনজিওর পরিচালক জেমস মৃদুল হালদার ও তার তিন কর্মচারীকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক মৃদুল হালদারকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। ঐ এনজিওর খামার থেকে হরিণের ছয়টি চামড়া ও ৩৭ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। ঐ এনজিওর হরিণ পালনের লাইসেন্স বাতিল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. আবুল হাশেম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. আবুল হাশেম জানান, বুধবার দুপুরে তিনি এনজিও আলোশিখায় গিয়ে বন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে এনজিও পরিচালক ও হরিণ খামারের মালিক জেমস মৃদুল হালদারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই আদালত অভিযুক্ত মৃদুল হালদারের কর্মচারী সুনীল চন্দ্র হালদার ও খোকন সরকারকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে। অপর কর্মচারী বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে উদ্ধারকৃত ছয়টি হরিণের চামড়া উপজেলা বনায়ন অফিসার মনীন্দ্র নাথ রায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে আদালত উদ্ধারকৃত ৩৭ কেজি হরিণের মাংস পুড়িয়ে নষ্ট করে তা মাটির গর্তে ঢেকে রাখারও আদেশ দেয়।

থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলার রাজিহার গ্রামের প্রতিষ্ঠিত এনজিও আলোশিখা রাজিহার সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে হরিণের খামার থেকে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়া গোপনে হরিণ জবাই করে সেই মাংস বিক্রির সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জনগণের হাতে ধরা পড়েন ঐ খামারের কর্মচারী মো. হায়দার। স্থানীয়রা হরিণের মাংসসহ আটক করে পুলিশে খবর দিলে কৌশলে হায়দার পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনজিওর মালিক মৃদুল হালদারের দেওয়া তথ্যমতে ঐ এনজিওর ফ্রিজ থেকে ৩৭ কেজি হরিণের মাংস ও ছাদের স্টোর রুম থেকে ৬টি চামড়া উদ্ধার করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছ, জেমস মৃদুল হালদার প্রায় এক যুগ আগে নিজ বাড়িতে হরিণের খামার গড়ে তোলেন। মৃদুল তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অবৈধভাবে খামারের হরিণ জবাই করে সেই মাংসে অতিথি আপ্যায়ন করে থাকেন এবং সেই সঙ্গে হরিণের মাংস ও চামড়া বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।