তালেবানের সরকার গঠন

পশ্চিমাদের উদ্বেগ স্বাগত জানাল চীন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫১

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার একটি পুরুষতান্ত্রিক অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে তালেবান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোল্লাহ মোহাম্মদ হাসান আখুন্দই জাতিসংঘের নিষিদ্ধের তালিকায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের তালিকায় আছেন। তালেবানের এই সরকার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগ জানালেও স্বাগত জানিয়েছে চীন। এই সরকারকে স্বীকৃতি না দিতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিরোধীরা। এদিকে কাবুলে গতকাল একদল নারী বিক্ষোভ করে নতুন সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সরকারের মন্ত্রিসভায় অনেকের নাম এসেছে, যাদের অতীত ইতিহাস ভালো নয় এবং কেউ সন্ত্রাসী তালিকায়ও রয়েছেন। মন্ত্রিসভায় একজন নারীও নেই। তবে আমরা কাজ দেখে বিচার করব, কথায় নয়।’ চীন তালেবানের নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তিন সপ্তাহ পর সরকার গঠন করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে তারা বিশ্বাস করে। চীন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বকে আফগানিস্তানে ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তারা আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। কাতারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, তালেবান এখন বাস্তববাদী মনোভাব দেখাচ্ছে এবং কাজের মাধ্যমেই তাদের বিচার করা উচিত। তার মতে, সশস্ত্র এই গোষ্ঠী যে আফগানিস্তানের একচ্ছত্র শাসক, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেছেন, তালেবান সরকারে বিভিন্ন গ্রুপ থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা বললেও সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। এটা কোনো অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার নয়। জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, সরকারের স্বীকৃতির সঙ্গে এই বৈশ্বিক সংস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সাংবাকিদের বলেন, ‘এটি সদস্য দেশগুলোই করে, আমরা নই। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, কেবল আলোচনা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিষ্পত্তির মাধ্যমেই আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব।’

স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান বিরোধীদের

তালেবানবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট (এনআরএফ) তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মন্ত্রিসভায় কোনো নারী সদস্য নেই, কেবল তালেবানরাই আছে। তাই এটা অবৈধ সরকার। তালেবান প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ আফগানদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।