অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি এই ব্যস্ত শহরে নিজের নামটি লিখিয়েছেন একটু একটু করে। সংগ্রামের ভেতর দিয়েই। চিত্রনায়িকা কবরীর হাত ধরে চলচ্চিত্রে প্রবেশ। এরপর জ্যোতিকা জ্যোতির ক্যারিয়ারে দারুণ দারুণ সব চলচ্চিত্র এসেছে। জ্যোতি বলেন, ‘আমি নিজের কাজ আর নিষ্ঠা দিয়েই এই পথটুকু হেঁটেছি। আমার কোনো গডফাদার নেই। তার প্রয়োজনও বোধ করিনি।’
করোনাকালীন যখন সকলেই কাজের সংকটে দিগ্বিদিক ছিলেন, তখন জ্যোতিকা জ্যোতি নিজ উদ্যোগে ‘খনা’ নামে একটি অর্গানিক খাবার সরবরাহের প্রতিষ্ঠান চালু করলেন। নিজ জেলা ময়মনসিংহের এক নদী লীজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। এর বাইরে মনোনিবেশ করেন কৃষিকাজে। জ্যোতি বলেন, ‘পরিশ্রম করে জীবনের আনন্দ কিনছি, তাতে আর লজ্জা কীসে! অভিনয়ের মতোই আমি এসব কাজকেও ভীষণ ভালবাসি। এবং একাগ্রতা নিয়েই করে যেতে চাই।’
আজ ‘খনা’র আনুষ্ঠানিক অফিস উদ্বোধন করছেন এই অভিনেত্রী। ঢাকায় প্রথম শোরুম উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। জ্যোতি বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসাকে দাঁড় করানোটা ভীষণ কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই একটু একটু করে করার চেষ্টা করেছি। তবে আমার পরিশ্রমে অনেকেই উত্সাহ দিয়েছেন। তাদের সকলের প্রতিই আমার কৃতজ্ঞতা।’
এদিকে গতকাল ছিল এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। জন্মদিনে নানান দিক থেকে শুভেচ্ছা আর উপহার গ্রহণ করেছেন। কেমন কাটল এই দিনটি? এমন প্রশ্নে জ্যোতি বলেন, ‘জন্মদিন নিয়ে আড়ম্বর আমি কখনোই করতে চাইনি। নিজের মতো করেই তো গুটিয়ে বেঁচে থাকি। কাজের সময় কাজে যাই। খুব বেশি আড্ডাতেও কেউ আমাকে পাবেন না। সেখানে এমন দিন মনে করে অনেকে শুভেচ্ছা জানান, উপহার পাঠান। তখন মনে হয় সত্যি ধন্য জীবন। তাই এদিনটা কিছু বিস্ময় কেনার মতো একটি দিন।’
সর্বশেষ টালিউডে ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবিটি মুক্তি পায় জ্যোতিকা জ্যোতির। এই ছবিতে জ্যোতির বিপরীতে ছিলেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। ছবিটি এতদিন নানান কারণেই বাংলাদেশি দর্শকেরা দেখতে পাননি। অবশেষ চলতি সপ্তাহে ছবিটি অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পেয়েছে।
জ্যোতি বলেন, ‘ওটিটি প্লাটফর্মগুলোর এই একটা দারুণ সুবিধা তা হলো এখন সারাবিশ্বের যে কাউকে আমি আমার ছবিটা দেখাতে পারছি। অ্যামাজনে মুক্তি পাবার পর সব বন্ধুদেরই ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
সর্বশেষ প্রাণ রায়-জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনীত মাসুদ পথিকের ‘মায়া-দ্যা লস্ট মাদার’ ছবিটি একাধিক ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। এছাড়া জ্যোতি অভিনীত এই ছবিটিও সম্প্রতি দুটি ফেস্টিভ্যালে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলো।
জ্যোতি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা ভালো লাগার তো অবশ্যই যে, নিজের অভিনীত ছবিগুলো এমন দারুণ দারুণ স্বীকৃতি পাচ্ছে। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন নিজের এই সৃষ্টিশীল মন নিয়ে অভিনয় আর নানান রকম উদ্যোগকে সফল করতে চাই।’
