আফগানিস্তানে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

কেমন হবে এখন তালেবান ও আল-কায়েদা সম্পর্ক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫০

সবাইকে চমকে দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরা তালেবান ইতিমধ্যে একটি সরকার গঠন করেছে। তাদের নিয়ে অনেক প্রশ্নের মধ্যে একটি এখন সামনে আসছে—দীর্ঘদিনের মিত্র আলকায়েদার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের এখন কী হবে?

তালেবানের কাছে আনুগত্যের এক অঙ্গীকারে বাঁধা রয়েছে আলকায়েদা, যাকে তারা বলে ‘বাইয়াহ’। ১৯৯০ সালে তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের কাছে প্রথম সেই অঙ্গীকার করেন আলকায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন। দুই পক্ষের মধ্যে এই সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি বেশ কয়েকবার নবায়ন করা হয়েছে, যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শান্তি চুক্তি তালেবান করেছিল, সেখানে বলা ছিল, তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় আলকায়েদা কিংবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না। গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখলের কয়েক দিন পর তালেবানের পক্ষ থেকে সেই চুক্তির প্রতিশ্রুতির কথা আবারও বলা হলেও প্রকাশ্যে তারা আলকায়েদাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। আলকায়েদাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের হুমকি আর ‘বাগাড়ম্বরে’ সামান্যতম নমনীয়তা দেখায়নি।

আরবি শব্দ ‘বাইয়াহ’ মানে মুসলমান কোনো নেতার ‘আনুগত্য’ স্বীকার করা। অনেক জিহাদি গোষ্ঠী এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এই ‘আনুগত্যকেই’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। একজন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করাসহ এই ‘প্রতিশ্রুতি’ দুই পক্ষের মধ্যেই কিছু বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। এমন ‘প্রতিশ্রুতির’ বরখেলাপ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তালেবান নেতা ও তার উত্তরসূরিদের সম্মানসূচক ‘বিশ্বাসীদের নেতা’ উপাধি দেওয়ার মাধ্যমে তালেবানের কাছে সেই আনুগত্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে আলকায়েদা। টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে নাইন-ইলেভেনে হামলার পর তালেবানের কাছে আশ্রয় নেন বিন লাদেন। সম্ভবত তার আনুগত্যের শপথের কারণেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তালেবান নেতা মোল্লা ওমর। এর পরই ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক জোটের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পতন হয়।