নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মধুমতী ও নবগঙ্গা নদীতে গত কয়েক বছর ভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রামের নাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরে নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙনে প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে কালিয়া পৌর শহরও।
বর্তমানে ভাঙনে পাড়ের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর যে কোনো সময় নদীগর্ভে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে ভাঙনঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাড়িঘরহারা মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের গ্রামগুলোতে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কালিয়া পৌরশহরের বড়কালিয়া, বৃহাসলা ও কুলসুর নামক স্থানে নবগঙ্গা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কালিয়া পৌরসভার একটি জনপদের নাম কুলসুর। এক সময় এখানকার মৃতশিল্পের খ্যাতি ছিল সারা দেশে। গত কয়েক বছরে গ্রামটির এক-তৃতীয়াংশ জমিসহ প্রায় ২৫টি বাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। চলতি বছর ভাঙনে চারটি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে আরো কয়েকটি বাড়ি। একই নদীর তীরবর্তী একটি গ্রামের নাম দেবীপুর। চলতি বছরের ভাঙনে ঐ গ্রামে প্রায় ১৩৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। তার পাশেই গ্রাম বাহিরডাঙ্গায় প্রায় ৪০টি পরিবার নদীভাঙনে গৃহহারা হয়ে পড়েছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে।
কালিয়া পৌরসভার মেয়র মো. ওয়াহিদুজ্জামান হীরা বলেছেন, পৌর শহরের বড়কালিয়া, বৃহাচলা ও কুলসুরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের ভাঙনে পৌর শহরের ৪০-৪৫টি বাড়ি নদীতে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ না নিলে আরো অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে গৃহহারা হয়ে পড়বে। কালিয়ার ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, নবগঙ্গা ও মধুমতীর ভাঙনে এ বছর উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান জানান, সম্প্রতি তিনি ভাঙনকবলিত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, কালিয়ার ইউএনও এবং পৌর মেয়র। ভাঙনকবলিত আট গ্রামের ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
