করোনাকালে দিনাজপুরে লেবু চাষ বাড়ছে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৫

দিনাজপুরে লেবুর চাষ বাড়ছে। জেলার ১৩টি উপজেলাতেই করোনাকালে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে লেবু চাষের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি বছর জেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে।

লেবু চাষ করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার চকরামপুর গ্রামের গৌতম চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ৪৮ শতাংশ জমিতে লেবু চাষ করেন, তাহলে খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া লিচু, আমবাগানের চারপাশে বেড়া হিসেবে এবং লিচু ও আমগাছের মাঝখানেও লেবু চাষ করা সম্ভব। আমি লিচুবাগানের পাশাপাশি লেবুর চাষ করছি। লেবু চাষের পাশাপাশি বর্তমানে লেবুর চারাও বিক্রি করি। গত মাসে ১৫ হাজার টাকার লেবুর চারা বিক্রি করেছি। লেবু চাষে তেমন একটা খরচ নেই বললেই চলে। ভালো ফলনের জন্য বছরে দুই-তিন বার সার প্রয়োগ করতে হয়। আর লাল মাকড় ও পাতা কোঁকড়ানো রোগের জন্য মাসে একবার স্প্রে করলেই হবে। একবার লেবুগাছ রোপণ করলে ১৫ বছর পর্যন্ত ফলন দেয়।’

গৌতম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে এলাচি জাতের ২০টি চারা রোপণ করি। এরপর ক্রমান্বয়ে আরো চারা রোপণ করতে থাকি। বর্তমানে বাগানে এলাচি লেবুগাছ আছে ৪০০। এরপর আট মাস আগে সিডলেস জাতের আরেকটি বারোমাসি লেবুর চারা রোপণ করেছি। গত বছর প্রায় ২ লাখ টাকার এবং গত বৈশাখ মাসেই ৮০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতি পিস লেবুর পাইকারি দাম দুই টাকা। লেবু চাষে সারা বছর লাভবান হওয়া যায়।’ দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের ফল গবেষক, সহকারী পরিচালক রতন কুমার রায়  বলেন, ‘লেবু এমন একটি উপকারী ফল, স্বাস্থ্য বিভাগের রোগতত্ত্ব বিভাগ গবেষণা করে কৃষি অধিদপ্তরকে লেবু চাষে আগ্রহী করতে তাগিদ দিয়েছে। এ কারণেই চলতি বছর এই জেলায় ১৩টি উপজেলা, ৯টি পৌরসভা এবং ১০৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতেই লেবুর চারা রোপণের জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে উচ্চফলনশীল বারোমাসি সিডলেস ও এলাচি জাতের লেবু চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই জাতের লেবুর চারা রোপণের তিন মাস পর থেকেই গাছে লেবু ধরতে শুরু করে। লেবুর চারা রোপণের পাঁচ মাস পর থেকে লেবুর ফলন সংগ্রহ করা যায়।’

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ বলেন, ‘দুই বছর ধরে সারা বিশ্বের মতো দিনাজপুর জেলায় করোনায় আক্রান্ত ও শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় চিকিত্সকদের পরামর্শে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আগের চেয়ে বেশি লেবু খাচ্ছে। ফলে বাজারে ব্যাপক হারে লেবুর চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়া বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষক লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি অধিদপ্তর এবার জেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে লেবু এমন একটি ফল, বছরে ১২ মাস উত্পাদন হয়ে থাকে। লেবুর চাষ লাভজনক হওয়ায় এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউপিতে অসংখ্য বাগান গড়ে উঠেছে। অধিক লাভজনক এই লেবু বাড়ির উঠানসহ পতিত জমিতে চাষ করে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন।’