কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রমের লক্ষ্য

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৪

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, বাংলাদেশের কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি জানিয়েছিল যে, তারা এই রোগের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন, ১২ জুন ২০২১ সালে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্পের (সিজিএস) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও বেড়েছে, ২২ মার্চ ২০২০ থেকে ৮ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২ হাজার ৩০২ জনের, তবে এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্ত হয়েছে ১৫ লাখেরও বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজারেরও বেশি।

করোনার এই প্রাদুর্ভাবে মৃত এবং আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস করার প্রত্যয়ে কিংবা করোনা ভাইরাসের লাগাম টেনে ধরতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা পদক্ষেপ নেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে করোনার কার্যকরী টিকা সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রশনের মাধ্যমে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে করোনার সফল টিকা কার্যক্রম চালু করেন।

সফলতার হার ভালো হওয়ায় গত ৭ আগস্ট ২০২১ সাল থেকে চালু করেন গণ টিকাদান ক্যাম্পেইন, সরকার বলেছে এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সারা দেশে ৪ হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভায় ও সিটি করপোরেশনের ৪৩৩টি ওয়ার্ডে টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ করোনার ১ম ডোজ টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ২য় ডোজ নিয়েছেন ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার ধরনের টিকা আমদানি করে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যার সফলতার হার অনেক বেশি।

১. ‘ফাইজার বায়োএনটেক’—এই টিকা দুই ডোজ নিতে হয়, ১ম ডোজ নেওয়ার তিন-চার সপ্তাহ পর ২য় ডোজ নিতে হয়, এর সফলতার হার ৯০-৯৬ শতাংশ, এটি জার্মানির তৈরি।

২. ‘মডার্না’—এই টিকা দুই ডোজ নিতে হয়, ১ম ডোজ নেওয়ার তিন-চার সপ্তাহ পর ২য় ডোজ নিতে হয়, এর সফলতার হার ৯০-৯৪ শতাংশ, এটি আমেরিকার তৈরি।

৩. ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিশিল্ড’—এই টিকা দুই ডোজ নিতে হয়, ১ম ডোজ নেওয়ার আট থেকে ১২ সপ্তাহ পর ২য় ডোজ নিতে হয়, এর সফলতার হার ৬৮-৯০ শতাংশ, এটি ইংল্যান্ড এবং সুইডেনের তৈরি।

৪. ‘সিনোভ্যাক’—এই টিকা দুই ডোজ নিতে হয়, ১ম ডোজ নেওয়ার সাত-আট সপ্তাহ পর ২য় ডোজ নিতে হয়, এর সফলতার হার ৬৮-৭৮ শতাংশ, এটি চীনের তৈরি।

এছাড়াও আরেকটি টিকা বাংলাদেশে আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার নাম ‘স্পুিনক-ভি’, এটিও দুই ডোজ নিতে হয়, ১ম ডোজ নেওয়ার তিন থেকে ১৩ সপ্তাহ পর ২য় ডোজ নিতে হয়, এর সফলতার হার ৮৫-৯০ শতাংশ, এটি রাশিয়ার তৈরি।

টিকা যখন সফলতার দিকে এগিয়ে চলেছে ঠিক তখনই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফলতাকে ধূলিসাত্ করতে সরকারবিরোধী একটি মহল নানা অন্তরায় সৃষ্টি করার চেষ্টায় মত্ত হয়ে পড়েছিল। আপামর জনতার মধ্যে প্রচার করছে—এই টিকা নিলে মানব শরীরের ডিএনএ পরিবর্তন হওয়াসহ হরমোন পরিবর্তন হয়ে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে, এমনকি মৃত্যু হতে পারে বলে গুজব রটিয়েছে।

যারা সরকারের এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে বিপরীত দিকে প্রবাহিত করে দেশ ও জনগণের কল্যাণমূলক কাজে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করছে তারা দেশ ও জাতির চিরশত্রু, তারা কখনো এদেশের মঙ্গল চায় না, তারা সর্বদাই চায় নানা গুজব রটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পরিকল্পিত উদ্দেশ্য হাসিল করতে। বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সব যড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের টিকা কার্যক্রম, তিনি এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কখনো মাথা নত করেননি আর কখনো মাথা নত করবেন না।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর বাংলাদেশের বর্তমান চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা কিংবা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ থাবাকে পদদলিত করতে জনগণকেই এগিয়ে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে, নতুবা সরকারের একার পক্ষে এই ভাইরাস মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

প্রতিটি মানুষের নিজের সতর্কতা নিজেই অবলম্বন করতে হবে, করোনা ভাইরাসের সব বিধি মেনে চলা প্রতিটি মানুষের এই মুহূর্তে গুরু দায়িত্ব, সরকার শুধু নির্দেশনা দেবে, নিজেকে করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে রক্ষা করতে নিজেই সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, তাহলেই আমরা নিজে এবং দেশকে এই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে পারব।

যেমন—মুখে মাস্ক পরা, নিয়ম মোতাবেক স্যানিটাইজেশন করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আবহাওয়া পরিস্থিতি মেনে চলা, খাদ্যজ্ঞান থাকাসহ সবকিছু মেনে চলা

একাগ্রচিত্তে সব বাধা উপেক্ষা করে দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসবে। সরকারের এই অব্যাহত টিকাদান কর্মসূচিকে যতই ব্যাহত করার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা কখনো বাধাগ্রস্ত করে ভাবমূর্তি খাটো করা যাবে না। ক্ষমতাসীন সরকারের লক্ষ্য, শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে দেশের বর্তমান অবস্থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা, একটি করোনা ভাইরাসমুক্ত স্বাভাবিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া। জনগণকেই এই প্রচেষ্টায় শামিল থাকতে হবে।

n লেখক : সাংবাদিক