চট্টগ্রামে ভেজাল মসলায় বাজার সয়লাব

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৩

চট্টগ্রামে অবাধে চলছে ভেজাল মসলার কারবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন ঘাসের বীজ, চাল ও ডালের গুঁড়া, ধানের তুষে রঙ মিশিয়ে ভেজাল মসলা তৈরি ও বিক্রি করা হয়। ভেজাল মসলার বড় ক্রেতা হচ্ছে হাটবাজারের মুদি দোকানি ও নগরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ। ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ চট্টগ্রামের সামাজিক অনুষ্ঠানের ভেজাল মসলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দাম কিছুটা কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষও রান্নার কাজে এসব মসলা ব্যবহার করে থাকেন। আসল হলুদ ও মরিচের গুঁড়া ২৫০ টাকা কেজি হলেও ভেজাল মসলার গুঁড়া ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে ভেজালবিরোধী অভিযানে ভেজাল মসলা ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও পরে জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভেজাল মসলা মিলমালিকরা পুলিশকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে থাকে। থানা, ফাঁড়ি ও ডিবি পুলিশের স্বঘোষিত ক্যাশিয়াররা নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও রাজাখালী এলাকায় অগণিত ভেজাল মসলা তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে মসলার গুঁড়া বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পাইকারি ও বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যায়।

সম্প্রতি ভোক্তা অধিকারের ভেজালবিরোধী অভিযানে মসলায় ভেজাল মেশানোর বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে। এসব কারখানায় ঘাসের বীজের সঙ্গে রঙ মিশিয়ে ভেজাল গুঁড়া মসলা তৈরি করা হয়। ঘাসের বীজ বা কাউন, যা পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তা ভেজাল মসলার মূল উপকরণ। ঘাসের বীজ গুঁড়া করে ক্ষতিকর রং মেশানো হয়। লাল রং মেশালে তৈরি হয়ে যায় মরিচের গুঁড়া আর হলুদ রং মেশালে একই গুঁড়া হয়ে যায় হলুদের। এর সঙ্গে কিছু শুকনা মরিচের গুঁড়া মেশালে মরিচের গুঁড়ায় হালকা ঝাল হয়। আর নকল হলুদের গুঁড়ায় কিছু আসল হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে দিলে ভেজাল মসলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এক মসলা ব্যবসায়ী জানান, গুঁড়া মসলায় যে রং মেশানো হয় তা কাপড়ে ব্যবহারের রং। নগরীর লয়েল রোডে ৩০০ টাকা কেজিতে এসব রং পাওয়া যায়। অথচ খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে যে রং ব্যবহার করা হয় তার দাম ৫ হাজার টাকা কেজি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপড়ের রং শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ভেতরে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে। অক্সাইড জাতীয় এসব টেক্সটাইলের রং মেশালে প্রথমে এসিডিটি হয়। অব্যাহতভাবে ভেজাল দেওয়া এসব মসলা ব্যবহার করলে হেপাটাইটিস, ক্যানসার, কিডনি ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।