তালেবানের হুমকি এবং বাধা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম দিকে পাঞ্জশির উপত্যকায় তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। পরে কাবুলে নারীদের বিক্ষোভ হয়। এবার সেই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীদের বিক্ষোভ প্রচার করায় এক সাংবাদিককে তালেবানরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দোহা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে তালেবান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কাল ১১ সেপ্টেম্বর শপথ নিতে পারে তালেবান। কাল টুইন টাওয়ার হামলার ২০ তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তালেবান নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে তালেবান। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
বিক্ষোভ বন্ধ করে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল তালেবান। কিন্তু তারপরও কাবুলে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভ থামাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এছাড়া পারওয়ান ও নিমরুজ প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বুধবার ফের তারা রাস্তায় নামেন। হাতে পোস্টার। যাতে লেখা, প্রাণ চলে গেলে চলে যাক, কিন্তু অধিকার আদায় করেই ছাড়ব। সেদিনও নারী বিক্ষোভকারীদের উপর অত্যাচার চালায় তালেবান যোদ্ধারা। মঙ্গলবার তালেবানের গড়া অন্তর্বর্তী সরকারে একজনও নারী সদস্য নেই। এতদিন আফগান সরকারে যে নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছিল, তাও তুলে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে আসা নারীদের দাবি, সরকার এবং প্রশাসনে নারীদের জায়গা দিতে হবে। নারীদের কাজের অধিকার দিতে হবে। তারা আর বাড়িতে বসে থাকবেন না। বুধবারের আন্দোলন থামাতে প্রায় নয়-দশ গাড়ি ভর্তি তালেবান চলে আসে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত নারীরা। তাদের বেত দিয়ে মারা হয়। ব্যাটারি লাগানো ব্যাটন দিয়ে মারা হয়, যে লাঠি দিয়ে মারলে ইলেকট্রিক শক লাগে। সঙ্গে অকথ্য গালাগাল করা হয় বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
কাবুলে বুধবার নারীদের বিক্ষোভ কভার করেন এক ফটোসাংবাদিক। নিয়ামতউল্লাহ নাকডি নামের এই সাংবাদিক বার্তা সংস্থা এফএপিকে জানিয়েছেন, ‘তালেবান ধরে নিয়ে মারধর করে। একজন তালেবান আমার মাথার ওপর পা রাখে, আমার মুখে আঘাত করে, তারা মাথায় পা দিয়ে বারবার আঘাত করে। তালেবান হুমকি দেয়, তোমার ভাগ্য ভাল যে তোমাকে শিরশ্ছেদ করা হয়নি।’ বিচার বিভাগ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালেবান বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। বিক্ষোভের আগে অনুমতি নিতে হবে নির্দেশনা দিয়েছে। পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমার স্বাধীনতা চাই, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদের দমানো যাবে না।’ কাবুলে উত্তর-পূর্বে কাপিসা প্রদেশেও নারীদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনেক নারীকে গ্রেপ্তার করে তালেবান। এর আগে পুরুষতান্ত্রিক মন্ত্রীসভা গঠনের প্রতিবাদে কাবুলে বুধবার বড় ধরনের সমাবেশ করে নারীরা। এদিকে মার্কিনীসহ প্রায় দুইশ’ বিদেশি নাগরিক আফগানিস্তান ছেড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবারই তাদের বহনকারী একটি বিমান কাবুল ছাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার পর এই প্রথম কোনও বিমান কাবুল ছাড়ল। অন্যদিকে পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ তালেবান নিলেও লড়াই চালানোর অঙ্গীকার করেছেন বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা এনআরএফ নেতা আহমেদ মাসুদ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছি। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যাব।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দোহা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ
তালেবান অভিযোগ করেছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েক জনকে সন্ত্রাসবাদের তালিকায় রেখে দোহা শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর এই শান্তি চুক্তি হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মোল্লাহ মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ জাতিসংঘের নিষিদ্ধের তালিকায় আছেন। হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এবং ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন সন্ত্রাসবাদের তালিকায়। সিরাজুদ্দিন হাক্কানির জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান বলছে, তালিকায় এদের নাম থাকাটা দোহা চুক্তির লঙ্ঘন। কারণ এদের নাম বাদ দেওয়ার শর্ত ছিল চুক্তিতে।
