গোলাপি পদ্মে কানায় কানায় পূর্ণ পুকুর। ঠিক মাঝখানে দৃষ্টিনন্দন লাইটিংয়ে সাজানো কংক্রিটের তৈরি পদ্ম ফোয়ারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চৌরঙ্গী মোড়ের ছোট্ট এই পুকুর এক সময় মুগ্ধ করত দর্শনার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে নতুন পালক যুক্ত করা এই জলাশয় ‘পদ্মপুকুর’ নামেও পরিচিত। তবে সংরক্ষণের অভাবে সৌন্দর্য হারিয়েছে এটি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পদ্ম ফোয়ারা। আর যত্নের অভাবে পদ্মও ফুটছে কম।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের চারদিকে ঘন জঙ্গলে ভরে গেছে। পানির স্বচ্ছতা নেই বললেই চলে। দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ছুড়ে ফেলা পানির বোতল ও চিপসের প্যাকেট ভাসছে পানিতে। পদ্ম ফোয়ারার ভেতরের যন্ত্রাংশও নষ্টের শঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পুকুরজুড়ে জন্ম নিয়েছে আগাছা আর জঞ্জাল।
জানা যায়, ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো পুনঃখননে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি গ্রহণ করেন তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এ সময় ৯৪৫ টন উন্নত মানের গম বরাদ্দ পায় বিশ্ববিদ্যালয়। বরাদ্দকৃত এই গম দিয়েই ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির আওতায় সাতটি লেক পুনঃখনন করা হয়।
সেই সময় ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকা ব্যয়ে ত্রিভুজ আকৃতির পদ্মপুকুরটি খনন করা হয়। খনন শেষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ৩০টি পদ্ম এনে পুকুরে লাগানো হয়। এরপর পুকুরটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঠিক মাঝখানে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পদ্ম ফোয়ারা।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন পদ্মপুকুরটি সংরক্ষণে দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (অবসর) ও পদ্ম ফোয়ারা নির্মাণ কমিটির সদস্যসচিব আবদুস সালাম মিঞা বলেন, পদ্মপুকুরটি খননের কিছুদিন পর তত্কালীন উপাচার্যের নির্দেশে পদ্ম ফোয়ারা নির্মাণ করি। ফোয়ারায় দৃষ্টিনন্দন লাইটও লাগানো হয়। পরে দেখা গেল, এই পুকুরটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থেকে সুন্দর স্থাপনা হয়ে উঠেছে। তবে এখন এটির অবস্থা বেশ খারাপ।
তিনি আরো বলেন, অল্প কিছু টাকা খরচ করলেই পদ্ম ফোয়ারাটি সংস্কার করা সম্ভব। এছাড়া ঠিকমতো আগাছা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করলে গোলাপি পদ্মগুলোও রক্ষা করা যাবে। পদ্মপুকুরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সামান্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এস্টেট) মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন বলেন, গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যমণ্ডিত পুকুরের সংরক্ষণ করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ ইত্তেফাককে বলেন, পদ্মপুকুরটি সংরক্ষণ ও পদ্ম ফোয়ারাটি সংস্কারের জন্য আলোচনা হয়েছিল। তবে নানা জটিলতার জন্য পদ্ম ফোয়ারাটির সংস্কার কাজ শুরু করা যায়নি। অতি দ্রুত পুকুর সংরক্ষণ ও ফোয়ারা সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
