মিয়ানমারে ১৪ মাসে ৬৬৯ শিশু নিহত :জাতিসংঘ

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫৮

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। গত ১৪ মাসে সেখানে ৬৬৯ শিশু নিহত ও ৩৯ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। নিহতদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা শিশু। জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি ডুজাররিক প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সামরিক অভিযান জোরদারের পর হতে মিয়ানমারের শিশুরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে গত ১৪ মাসের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডুজাররিক জানান, ভুক্তভোগীদের যথাসম্ভব মানবিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশিরা মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ:সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। মূলত রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হওয়ায় আটকে গেছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উ উইন মিয়াত আয়ে দাবি করেছেন, ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি- আরসা’র সহযোগীরা রোহিঙ্গাদের হুমকি দিয়েছে। এ কারণে তারা মিয়ানমারে ফিরতে চাইছে না। তিনি আরও দাবি করেছেন, স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে থাকা এমন রোহিঙ্গারা ভাইবার ব্যবহার করে মিয়ানমার সরকারকে জানিয়েছে, তাদেরকে প্রত্যাবাসনের ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না! মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতীর খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মন্ত্রী আয়ে বলেন, আশ্রয় শিবির থেকে যারা মিয়ানমারে ফিরে আসতে চায় তাদের কয়েকজনকে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন কি হত্যাও করা হয়েছে। আর এই ভীতিকর পরিস্থিতির কারণেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে পারছে না।