রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘমেয়াদি খরা এবং করোনা মহামারির
কারণে আগামী ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে
দারিদ্র্যের হার ৯৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে
সতর্ক করেছে জাতিসংঘ
আল জাজিরা
রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘমেয়াদি খরা এবং করোনা মহামারির কারণে আগামী ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আফগানিস্তানের দারিদ্র্যের হার ৯৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের জাতীয় আয় হিসাব করে দেখা যাচ্ছে যে, দারিদ্র্যতার হার ২৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে দেশটিতে। এরই মধ্যে আফগানিস্তানের অর্ধেক জনসংখ্যা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। আফগানিস্তানে কর্মরত ইউএনডিপির প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেছেন, দেশটির বাজেটের ওপর চরম ধাক্কা, রির্জাভে ধাক্কা এবং এমনকি ৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ স্থগিত থাকায় দেশটির বাণিজ্যেও চরম ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও চরম ক্ষতিগ্রস্ত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংগঠন যেমন ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক এবং অন্যান্যের একত্রে বসা দরকার জাতিসংঘের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য। তিনি বলেন, অবস্থা বেগতিক হলেও আমরা এখনো এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে দেশটির জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ আসত বিদেশি সহায়তা থেকে। চরম সংকট কাটাতে জাতিসংঘ তালেবানকে আহ্বান জানিয়েছে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোকে কাজ করতে দেওয়ার জন্য।
১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেওয়ার পর চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে দেশটি। বন্ধ হয়ে যায় সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তিন সপ্তাহ পর তালেবান নতুন সরকারের ঘোষণা দিলেও এখনো রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়নি সেখানে। ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। খাদ্যসংকটে পড়েছে দেশটির কয়েক লাখ মানুষ।
