কুমিল্লা-নোয়াখালী ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের এখনো ৩৫ ভাগ বাকি। কাজ শুরুর পর গত তিন বছরে এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ ভাগ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যে ২৫ কিলোমিটার সড়কপথ দৃশ্যমান হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে এ কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগবে আরো অন্তত এক বছর। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে নোয়াখালী থেকে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা পথে দূরত্ব কমবে ৫০ কিলোমিটার এবং দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ পথে যাতায়াতকারীদের সময় বাঁচবে অন্তত তিন ঘণ্টা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ নামক স্থান থেকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এর মধ্যে কুমিল্লা সড়ক বিভাগ ৪৫ কিলোমিটার এবং নোয়াখালী সড়ক বিভাগ ১৪ কিলোমিটার প্রকল্পের কাজের তদারকি করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে কুমিল্লার লালমাই থেকে লাকসাম পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের মধ্যে তিনটির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং সম্প্রতি একটি প্যাকেজের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্মাণ ও মাটির কাজের পাশাপাশি সড়ক বাঁধের স্লোভ প্রটেকশন, ডিভাইডার, পিচ ঢালাই ও ফিনিশিংয়ের কাজ। সওজ সূত্র জানায়, চার লেন মহাসড়কের লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার বাইপাস এবং লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম এখনো চলছে, তবে তা শেষ পর্যায়ে। লাকসাম উপজেলার বাইপাস এলাকায় দুই লেনের মাধ্যমে এ মহাসড়ক চালু করা হবে। অন্য দুই লেনের জন্য আলাদা প্রকল্প পরবর্তী সময় হাতে নেওয়া হবে।
এদিকে ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব ও নানা জটিলতার কারণে কাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়েছে এ সড়কে চলাচলকারী লাখো মানুষ। এ বিষয়ে কথা বলেন কুমিল্লা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহদপ্তর সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন সুমনসহ চার জন পরিবহন নেতা। তারা বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে চলমান কাজে ধীরগতির কারণে ব্যস্ততম এ সড়কের অধিকাংশ স্থানে ছোট-বড় গর্ত আর উঁচু-নিচু সড়কে হেলে-দুলে চলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে গাড়ি, ঘটছে দুর্ঘটনা।
সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই রাব্বী বলেন, ২ হাজার ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
