চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙ্গনে ৬০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৯

 ‘আমি এখন নিঃস্ব, অসহায়। আমার সব নিয়ে গেছে সর্বগ্রাসী পদ্মা নদী। ২০ বিঘা জমির ওপর আমার আমের বাগান, বাঁশ বাগান ও বিশাল বাড়ি ছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সব বিলীন হয়ে গেছে।’ কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললেন. চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা  ইউনিয়নের  গোয়ালডুবি গ্রামের মৃত আরাশ তুল্লাহ ছেলে মাইনুল ইসলাম (৭০)। শুধু মাইনুল ইসলামই নয়, সরজমিনে গেলে গোয়াডুবি গ্রামের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ দিনে গোয়ালডুবি গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবারের বাড়িঘর, বসতবাড়ি, শতাধিক একর জমির আমবাগান, বাঁশ বাাগান, ফসলি জমি, কবরস্থান, মসজিদসহ আরো অনেক কিছু পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।  পদ্মায়  বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাওয়া নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল ওদুদ বলেন, গত মাসের ১৩/১৪ তারিখের দিকে হঠাত্ করে ভাঙন শুরু হয়। প্রথমেই যে ৩২টি বাড়ি বিলীন হয়েছে তার মধ্যে একটি পাকা বাড়ি, তিনটি কাঁচা বাড়ি ও ২৮টি আধাপাকা বাড়ি। আমরা এ ৩২টি পরিবার কিছুই সরাতে পারিনি।   গোয়ালডুবি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাইমুল হক বলেন, আমার ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে মানুষের এত কষ্ট দেখিনি। পদ্মা নদী ভাঙনে এ গ্রামের প্রায় ৫০/৬০ পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে একটি মসজিদ, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ শত শত বাড়িঘর হুমকীর মুখে রয়েছে। বর্তমানে মানুষ অত্যন্ত কষ্টে থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা  আসেনি। বাড়িঘর বিলীন যাওয়াদের কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি।

গ্রামের মাওলানা সানাউল্লাহ মাদানী বলেন, ভাঙন রোধে যে বালুর বস্তা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো নিম্নমানের। এমনকি মাটি ভরে বস্তা তৈরি করা হচ্ছে, যা পানিতে ফেলা মাত্র পানিতে মিশে যাচ্ছে। বালুর বস্তা প্রস্তুতকারক  নুরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৯৮০টি  বস্তা ফেলে  ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরো বস্তা ফেলা হবে। এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা  পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, চরবাগডাঙ্গা ও শাহাজানপুর এলাকার ভাঙন রোধ প্রকল্পে  ৫৬৬ কোটি বরাদ্দ হয়েছে এবং টেন্ডার হয়েছে। ২৯ জন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া  হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়ে হঠাত্ করে ভাঙন শুরু হয়েছে।