নারায়ণগঞ্জে অগ্নিঝুঁকিতে ৮৪টি মার্কেট

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:২৮

জেলা ফায়ার সার্ভিস একাধিকবার সতর্ক করলেও প্রতিকার নেই

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

শিল্পসমৃৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মার্কেটে ও শপিংমলে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ফলে ছোট-বড় ৮৪টি মার্কেটকে অগ্নিঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এ তালিকায় সিটি করপোরেশনের মার্কেটও রয়েছে। এসব মার্কেট কর্তৃপক্ষকে  জেলা ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স একাধিকবার সতর্ক করলেও কর্ণপাত করছে না তারা।

সরেজমিনে নগরের একাধিক মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ডিআইটি মার্কেটের গলিতে দোকানগুলো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে মার্কেটের ভেতরে-বাইরে হাঁটার জায়গাটুকু পর্যন্ত নেই। গা ঘেঁষে পথ চলতে হয় ক্রেতাদের। রিভারভিউ মার্কেট, হাজী করিম উল্লাহ মার্কেট, করিম মার্কেট, বন্দন মার্কেটসহ অধিকাংশ মার্কেটের চিত্র একই। বিশেষ করে পুরোনো মার্কেটগুলোর বেশির ভাগেরই অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি নতুন মার্কেটের অনেকগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল অক্সিজেন সিলিন্ডার দেখা গেলেও পানির রিজার্ভ ট্যাংক বা আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দেখা যায় না। যে কোনো মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ডে রয়েছে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রমতে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জোন-১-এর আওতাধীন ৮৪টি মার্কেটকে অগ্নিঝুকিঁপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অগ্নিঝুঁকি চিহ্নিত এসব মার্কেটের অধিকাংশ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত।

অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে জামান টাওয়ার, জে এম সুপার মার্কেট, জনতা সুপার মার্কেট, গ্রীণ সুপার মার্কেট, ডায়মন্ড সুপার মার্কেট, আজহার সুপার মার্কেট, সোনার বাংলা সমবায় মার্কেট, টেকনো মার্কেট, শরীফ সুপার মার্কেট, গুলশান মার্কেট, ভূইয়া মার্কেট, ডিআইটি মার্কেট, মল্লিক টাওয়ার হাসান প্লাজা, হাজী মোতালেব মার্কেট, হাকিম মার্কেট, গিয়াস সুপার মার্কেট, সুরেশ প্লাজা, টপ মার্ট ফ্যাবিক্স লি. নারায়ণগঞ্জ, ইসলাম মার্কেট, ক্লাব মার্কেট, ড. মাহবুব মার্কেট, দেলোয়ার সুপার মার্কেট, জাহান সুপার মার্কেট, নয়ন সুপার মার্কেট, ইব্রাহিম সুপার মার্কেট, আফসানা মার্কেট, শরীফ সুপার মার্কেট, মজিদ সুপার মার্কেট, খাজা সুপার মার্কেট, পানোরোমা প্লাজা, বেলী টাওয়ার, মার্ক টাওয়ার ফ্যাশন মার্কেট, সমবায় নিউ মার্কেট, শান্তনা মার্কেট,  নারায়ণগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স-০১, এন ইসলাম রেলওয়ে মার্কেট, হাজী তারা মিয়া মার্কেটসহ ৮৪টি মার্কেট।

নারায়ণগঞ্জ মার্কেট সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের একাধিক মার্কেট অনেক পুরোনো। তখন যেসব নিয়ম মেনে মার্কেট নির্মাণ করার দরকার ছিল, সেই নিয়ম মেনেই মার্কেট তৈরি করা হয়েছিল। তখন অগ্নিঝুঁকিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তখন জানানো হয়নি। তবে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছি। তবে নতুন মার্কেট নির্মাণে বর্তমান সব নিয়ম মেনে ভবন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে জেলার ৮৪টি মার্কেট অগ্নিঝুঁকির আওতায় এ বিষয় আমার জানা ছিল না। এ-সংক্রান্ত কোনো নোটিশ আমরা পাইনি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন এ বিষয়ে বলেন, আমরা নিয়মিত বিভিন্ন  মার্কেট পরিদর্শন করে কোনটি ঝুঁঁকিপূর্ণ তা চিহ্নিত করছি। আমরা শিগিগরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়েবসাইটে সব ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের নাম প্রকাশ করব এবং মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হবে। তখন সব দপ্তর আমাদের ওয়েবসাইট থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অবগত থাকবে।