স্পোর্টস রিপোর্টার
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে টানা দুটি সিরিজ খেলল বাংলাদেশ দল। দুটিতেই সিরিজ জিতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পেরেছে টাইগাররা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা, সংগ্রাম চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসদের রান খরা ছিল চোখে পড়ার মতো। হোম কন্ডিশনেই রান দেখা গেল না তাদের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিরে মুশফিক-লিটন দুই জনই টানা পাঁচটি করে ম্যাচ খেলেছেন। পাঁচ ম্যাচে মুশফিক মাত্র ৩৯, লিটন ৬৫ রান করেছেন। গতকাল বিশ্রামে থাকা সাকিব চার ম্যাচে ৪৫ রান করেছিলেন। সর্বোচ্চ ১২০ রান করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৫ রান এসেছে নাঈম শেখের ব্যাট থেকে।
গতকাল তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-২০ ম্যাচটি খেলেছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাট করা কিউইরা উইকেটের ব্যাটিং সখ্যতার পূর্ণ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু নিজেদের আঙিনায় ব্যাট হাতে ব্যর্থ মুশফিকরা। রান তাড়া করতে নেমে গতকাল লিটন ১০, মুশফিক ৩, সৌম্য ৪ রানে আউট হয়েছেন। দলের প্রয়োজনে ভরসা হতে পারেননি তারা।
মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল ২৭ রানে হারের সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদেশ। তাই হারের স্মৃতি নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে যাবে টাইগাররা।
আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড পাঁচ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল। ল্যাথাম অপরাজিত ৫০, ফিন অ্যালেন ৪১ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে লড়লেন শুধু আফিফ। বাকিদের ব্যর্থতায় তার চেষ্টা আলোর মুখ দেখেনি। আট উইকেটে ১৩৪ রান করতে পেরেছে স্বাগতিকরা। আফিফ ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৯, মাহমুদউল্লাহ ২৩, নাঈম শেখ ২৩ রান করেন। টানা তিন টি-২০ সিরিজ জিতেও তাই স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।
গতকাল ম্যাচের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও হারের জন্য বাজে ব্যাটিংকেই দায়ী করেছেন। ৩-২ এ সিরিজ জিতে অবশ্য খুশি তিনি। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘জিততে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ড খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা ভালো রান তাড়া করতে পারিনি। তবে সিরিজ জিতে খুশি। আমি মনে করি, বোলাররা ভালো করেছে। আমরা রান তাড়ায় ভালো শুরু করতে পারিনি। আমি ও আফিফ জুটি গড়তে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওদের বোলাররা ভালো বোলিং করেছে।’
তবে টানা তিন সিরিজ জয়কে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসের রসদ বলছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘শেষ তিন সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, সবগুলো জিতেছি। আশা করি, বিশ্বকাপে এটা বড় প্রেরণা হবে।’
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, ৫ম টি-টোয়েন্টি
টস : নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড রান বল ৪ ৬
অ্যালেন ব শরীফুল ৪১ ২৪ ৪ ৩
রবীন্দ্র ক মুশফিক ব শরীফুল ১৭ ১২ ৩ ০
ল্যাথাম অপরাজিত ৫০ ৩৭ ২ ২
ইয়াং ক সোহান ব আফিফ ৬ ৮ ১ ০
গ্র্যান্ডহোম ক শামিম ব নাসুম ৯ ৮ ০ ১
নিকোলস ক সোহান ব তাসকিন ২০ ২১ ২ ০
ম্যাকনকি অপরাজিত ১৭ ১০ ৩ ০
অতিরিক্ত (লেবা ১) ১
মোট (২০ ওভার, ৫ উইকেট) ১৬১
উইকেট পতন : ১-৫৮ (রবীন্দ্র, ৫.৪ ওভার), ২-৫৮ (অ্যালেন, ৬), ৩-৭১ (ইয়াং, ৮.৪), ৪-৮৩ (গ্র্যান্ডহোম, ১০.৪), ৫-১১৮ (নিকোলস, ১৬.৩)
বোলিং : তাসকিন ৪-০-৩৪-১, নাসুম ৩-০-২৫-১, শরীফুল ৪-০-৪৮-২, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-১৭-০, সৌম্য ২-০-১৪-০, আফিফ ৩-০-১৮-১, শামিম ১-০-৪-০।
বাংলাদেশ
নাঈম ক ল্যাথাম ব সিয়ার্স ২৩ ২১ ৩ ০
লিটন ক কুগেলেইন ব প্যাটেল ১০ ১২ ১ ০
সৌম্য ক রবীন্দ্র ব ম্যাকনকি ৪ ৯ ০ ০
মুশফিক ক গ্র্যান্ডহোম ব রবীন্দ্র ৩ ৮ ০ ০
আফিফ অপরাজিত ৪৯ ৩৩ ২ ৩
মাহমুদউল্লাহ ক অ্যালেন ব কুগেলেইন ২৩ ২১ ১ ১
সোহান এলবিডব্লিউ প্যাটেল ৪ ৪ ১ ০
শামীম ব ডাফি ২ ৫ ০ ০
তাসকিন ব কুগেলেইন ৯ ৪ ২ ০
নাসুম অপরাজিত ৩ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (ও ৪) ৪
মোট (২০ ওভার, ৮ উইকেট) ১৩৪
উইকেট পতন : ১-২৬ (লিটন, ৪.২ ওভার), ২-৩৮ (সৌম্য, ৬.৪ ওভার), ৩-৩৯ (নাঈম, ৭.২), ৪-৪৬ (মুশফিক, ৮.৫ ওভার), ৫-১০৯ (মাহমুদউল্লাহ, ১৬), ৬-১১৩ (সোহান, ১৬.৪ ), ৭-১১৬ (শামীম, ১৮), ৮-১২৭ (তাসকিন, ১৯)।
বোলিং : ডাফি ৪-০-২৫-১, প্যাটেল ৪-০-২১-২, কুগেলেইন ৩-০-২৩-২, ম্যাকনকি ৩-০-২৫-১ , সিয়ার্স ৩-০-২১-১ , রবীন্দ্র ৩-০-১৯-১।
ফল : নিউজিল্যান্ড ২৭ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা :টম ল্যাথাম।
সিরিজ সেরা :নাসুম আহমেদ।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ।
