স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্রিকেটমোদীদের বিনোদিত করতে জুড়ি নেই ক্রিকেটের খুদে ফরম্যাটের। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের মন্ত্রই হলো চার-ছক্কার ঝড়, রানের ফোয়ারা, ব্যাটসম্যানদের হাতে বোলারদের বেদম প্রহার। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি-২০ ক্রিকেটের এমন চিত্তাকর্ষক রূপ বরাবরই অনুপস্থিত। স্লো, লো বাউন্সের উইকেটের জন্য বিখ্যাত বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেটের ২২ গজ।
ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জিং জীবন, বোলারদের দাপটই এখানে চিরসত্য। এমন উইকেটে খেলে বড় বড় দলকে ঘায়েল করেছে টাইগাররা। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এসেছে প্রথম টি-২০ সিরিজ জয়। কিন্তু সমালোচনা পিছু ছাড়েনি মিরপুরের উইকেটের, লো স্কোরিং ম্যাচের ধারাবাহিকতা দেখে উইকেটের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন অনেকে। বিশেষ করে এমন উইকেটে খেলে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কতটা হলো, সেটাই ছিল সবার প্রশ্ন।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর মিরপুরের উইকেটের সমালোচনায় মুখর হন হার্শা ভোগলে। ভারতীয় এ ধারাভাষ্যকার টুইটারে লিখেছেন যে, বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া ম্যাচগুলো কোনো দলকেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে না। সঙ্গে শ্রীলঙ্কার উইকেটগুলোর কথাও জুড়ে দিয়েছিলেন হার্শা।
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলও মিরপুরের উইকেট তোপের মুখেই ছিল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দলগত সর্বোচ্চ ছিল ১৩১ রান। নিউজিল্যান্ড সিরিজে সেটা অবশ্য কিছুটা বেড়েছে। গতকাল সিরিজের শেষ ম্যাচেই কিছুটা রান দেখা গেল। কিউইরা আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬১ রান তোলে। পরে বাংলাদেশ নামতেই উইকেট আরো স্লো হয়ে আসে। রান তুলতে সংগ্রাম করেন ব্যাটসম্যানরা। মূলত পরপর দুই ম্যাচে একশোর কম রান হওয়ায় সমালোচনা বেড়ে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে ৬২ রানে অলআউট হয়েছিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৬০ রানে অলআউট হয়। অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটেও এমন নিষ্প্রাণ টি-২০ ম্যাচই সবসময় দেখা যায় মিরপুরে।
তবে উইকেট নিয়ে অভিযোগ করেনি নিউজিল্যান্ড। বরং কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে তারা। বাংলাদেশ দল মুখিয়ে ছিল সিরিজ জিততে। হোম কন্ডিশনের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চেয়েছেন টাইগাররা।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান উইকেট নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝপথে বিসিবির এ পরিচালক বলেছিলেন, ‘এখনকার আবহাওয়ার কারণে উইকেট শুকানো যাচ্ছে না। উইকেটে কভার দিয়ে রাখতে হয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যেমন উইকেট পাই, বছরের এই সময়ে এমন উইকেট পাই না। এখন ভালো উইকেট আশা করা কঠিন।’
