আজ খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:১৯

পুনঃ বুনন করে দিতে হবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন

মো. রহমত উল্লাহ্

 

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, আপনারা জানেন  প্রায় দেড় বছর পর খোলা হচ্ছে আমাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সুপ্রিয় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতে যাচ্ছে ক্যাম্পাস। সীমিত পরিসরে হলেও অবসান হতে যাচ্ছে আমাদের ও আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দি জীবন। পূর্ণ হতে যাচ্ছে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে আমাদের পালন করতে হবে অনেক জমে থাকা দায়িত্ব ও কর্তব্য। সক্রিয় থাকতে হবে আগের তুলনায় অনেক বেশি। বৃদ্ধি করতে হবে কর্ম উদ্যম ও ধৈর্যধারণ।

সুস্থ থাকতে হবে নিজেদের এবং সেই সাথে সুস্থ রাখতে হবে প্রিয় শিক্ষার্থীদের। মানতে হবে ও মানাতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। বজায় রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। চাঙ্গা রাখতে হবে মনোবল, প্রদান করতে হবে প্রেষণা। উজ্জীবিত করতে হবে নতুন উদ্যমে। পুনঃবুনন করে দিতে হবে তাদের জীবনের স্বপ্ন। পরিবর্তিত সময়ের উপযোগী করে বাতলে দিতে হবে স্বপ্ন পূরণের কৌশল। শুরুর দিকে অধিক নিয়োজিত রাখতে হবে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ধীরে ধীরে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে লেখাপড়ায়। কোনোভাবেই তাদের সাথে করা যাবে না রাগারাগি। করা যাবে না কঠিন শাসন। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় ও বিভিন্ন প্রতিকূলতায় মানসিক চাপে বিপর্যস্ত আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা! আমরা জানি না এ সময়ে কতটা খারাপ আচরণের শিকার হয়েছে তারা। কে কতটা চলে গেছে বিপথে! কতটা কষ্টে আছে অভাব-অনটনের তাড়নায়।

তারা এখন আর দেড় বছর আগের শিক্ষার্থী নয়। সবারই পাল্টে গেছে বয়স। আগের মতো আচার-আচরণ নাও করতে পারে অনেকেই। পাল্টে যেতে পারে কথাবার্তা ও চালচলনের ধরন। আগের মতো নাও পারতে পারে লেখাপড়া। ভুলে গিয়ে থাকতে পারে অনেক সহজ বিষয়! অটো প্রমোশনের কারণে থাকতে পারে অনেক লার্নিং লস। নিয়ে আসতে পারে অনেক বদভ্যাস। থাকতে পারে অনলাইন গেমসহ বিভিন্ন রকম মন্দ আসক্তি। খুব ঘনিষ্টভাবে করতে হবে পর্যবেক্ষণ। চিহ্নিত করতে হবে সমস্যা। আদর দিয়ে, সোহাগ করে, কাছে ডেকে, বুঝিয়ে-শুনিয়ে সারিয়ে তুলতে হবে তাদের। হয়তো সহজ পড়াটিই বুঝিয়ে দিতে হবে একবারের জায়গায় দশবার। অত্যন্ত ধৈর্য ধরে, সময় দিয়ে, শ্রম দিয়ে, দরদ দিয়ে, মনোবৈজ্ঞানিক উপায়ে একান্তে সংশোধন করতে হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীর আচরণের অনুকূল পরিবর্তন সাধনের মধ্যেই শিক্ষকের সফলতা। কেননা, আচরণের স্থায়ী অনুকূল পরিবর্তনই শিক্ষা।

পুরো প্রতিষ্ঠানে বজায় রাখতে হবে অত্যন্ত আনন্দঘন ও ভয় মুক্ত পরিবেশ। ছোট ছোট সফলতায় শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ধন্যবাদ। অন্যান্য স্থানের চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যেন অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকগণের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে হবে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থী না থাকলে কেউ শিক্ষক থাকে না। যার শিক্ষার্থী আছে সেই শিক্ষক। শিক্ষার্থী সফল হলেই শিক্ষক সফল। শিক্ষার্থীকে সব দিক থেকে এ প্লাস করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই পরিতৃপ্তি লাভ করেন শিক্ষক। সেই পরিতৃপ্তি লাভের প্রচেষ্টায় এখন আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে হবে আমাদের। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনোভাবেই চাপানো যাবে না কোনো দায়।