ফুল : সৌন্দর্যে অনন্য পদ্ম ফুল

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:২৩


পদ্ম কন্দ জাতীয় ভূ-আশ্রয়ী বহু বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। পবিত্র সৌন্দর্যের প্রতীক। পদ্মফুলের আরো নাম রয়েছে, যেমন কমল, শতদল, সহস্রদল, উত্পল, মৃণাল পঙ্কজ, অব্জ, অম্বুজ, নীরজ, সরোজ, সরসিজ। সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গায় পদ্ম ভালো জন্মে। এর বংশ বিন্তার ঘটে কন্দের মাধ্যমে। পাতা পানির ওপর ভাসলেও এর কন্দ পানির নিচে মাটিতে থাকে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে গাছ বাড়তে থাকে। পাতা বেশ বড়, পুরু, গোলাকার ও রং সবুজ। পাতার বোঁটা বেশ লম্বা, ভেতর অংশ অনেকটাই ফাঁপা থাকে। ফুলের ডাঁটার ভিতর অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য ছিদ্র। ফুল আকারে বড় এবং অসংখ্য নরম কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্টি। ফুল ঊধ্বর্মুখী, মাঝে পরাগ। ফুটন্ত তাজা ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। ফুল ফোটে রাত্রিবেলা এবং সকাল থেকে রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্ব পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকে। রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুল সংকুচিত হয়ে যায় ও পরবর্তী সময়ে প্রস্ফুটিত হয়। ফুটন্ত ফুল এভাবে বেশ অনেক দিন ধরে সৌন্দর্য বিলিয়ে যায়।

পাতা গোলাকৃতি, কোনো কোনো পাতা পানিতে লেপটে থাকে, কোনটা উঁচানো। হাওর-ঝিলবিল বা পুকুরে সাদা পদ্ম ফুল ফোটে। ফুল বৃহত্ এবং বহু পাপড়িযুক্ত। সাধারণত বোঁটার ওপর খাড়া, ৮ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার চওড়া। ফুলের রং লাল, গোলাপি ও সাদা, সুগন্ধিযুক্ত। ফুল ও ফলের ভেষজগুণ আছে। পদ্মের মূল, কাণ্ড, ফুলের বৃন্ত ও বীজ খাওয়া যায়। পুরাতন গাছের কন্দ এবং বীজের সাহায্যে এদের বংশবিস্তার হয়। তিন ধরনের পদ্ম ফুল রয়েছে—শ্বেত পদ্ম,  লাল পদ্ম,  নীল পদ্ম।

পদ্ম ফুল ও ফল (পদ্ম চাক)-এর ভিতরে থাকা বীজ বা বোঁটা আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের জন্য খুবই উপকারী। ঔষধিগুণ ছাড়াও পদ্ম চাক ও বীজ বা বোঁটা সুস্বাদু খাবার। গোলাপি পদ্ম বেশি চোখে পড়ে। সেই তুলনায় সাদা পদ্ম বা পদ্মকমল অনেকটাই অপ্রতুল। পদ্ম জলজ পরিবেশের উত্কৃষ্ট উপাদান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পদ্মের ভূমিকা রয়েছে।

সাদা পদ্মের উত্স স্থল জাপান ও নর্থ অস্ট্রেলিয়া। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলায় সাদা পদ্ম এখনো দেখা যায়। সাদা পদ্মের অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হূদপিণ্ড ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ। ডায়রিয়া রোগ সারাতে এর বোঁটা কাঁচা খেলে উপকার হয়। পদ্মফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি লোটাস চা প্রতিদিন পান করলে গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া ও হার্টের সমস্যায় কাজ করে। সেইসঙ্গে হাই ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও এই চা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। পদ্মের শুকনো মূল গুঁড়ো করে খেলে ফুসফস, কিডনি ও পাচনতন্ত্র ভালো থাকে।      

ইরান, চীন, জাপান, নিউ গায়েনা, বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে পদ্ম জন্মে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রামে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়ায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঘাগুটিয়ার পদ্মের বিলে, ফরিদপুরের বিল গজারিয়া ও সদরের ঝিলটুলি এলাকায়, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রাবান এলাকার বিলে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার খইলাপুরী বিলে, গোপালগঞ্জের করপাড়ার বলাকইর বিলে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জাদুরতাইর ও ঝারাবর্ষা বিলে, নাটোরের বড়াই গ্রামের বিলে, রাজশাহীর মোহনপুরের সাবাই বিলে, নড়াইলের রামগর চরের বিলে পদ্মের দেখা মিলবে।

চয়ন বিকাশ ভদ্র