প্রযুক্তি : টমক্যাট

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩০

 

হঠাত্ করে কোনো বিড়ালের কথা মনে হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো বিড়াল নয়, এটি জঙ্গি বিমান! বিশ্বের সেরা জঙ্গি বিমান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘টমক্যাট’। আমেরিকার গ্রুমান সংস্থা পুরনো ত্রুটিগুলো সংশোধন করে জঙ্গি বিমানের টমক্যাট সিরিজ তৈরি করে। টমক্যাটের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অস্ত্র হলো জেনারেল ইলেকট্রিকের তৈরি ২০ কিলোমিটার ভলক্যানো কামান। প্রতিটি বিমান ৬৭৫ রাউন্ড গোলা বহন করে। সাধারণ জঙ্গি বিমানের মতো এই টমক্যাটে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা ছাড়াও রয়েছে হিউজেস এডব্লিউ-জি-৯ রাডার। ৩১৫ কিলোমিটার পাল্লার এ রাডার বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এ রাডার একইসঙ্গে ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রকে পৃথক পৃথক ৬টি লক্ষ্যস্থলের দিকে চালিত করতে পারে এবং ২৪টি লক্ষ্যবস্তুকে একইসঙ্গে লক্ষ রাখতে পারে। এ রাডার এতই উন্নত যে, লক্ষ্য স্থির করার সঙ্গে সঙ্গে তা লক্ষ্যবস্তুকে স্ক্যান করতে পারে।

টমক্যাট বিমানের মূল দেহের নিচে চারটি এবং বড় দুটি ডানার প্রত্যেকটিতে একটি করে মোট ছয়টি অস্ত্র বহন করার স্থান রয়েছে। আর মোট অস্ত্র বহনের ক্ষমতা ৬৫৭৭ কেজি। তাছাড়া দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য এটি অতিরিক্ত হিসেবে ১ হাজার ১৪ লিটারের দুটি তেলের ট্যাংক বহন করতে পারে। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যগুলোকে দূর থেকে চেনার জন্য এর রয়েছে ‘নর্থরোপ টেলিভিশন ক্যামেরা সিস্টেম’। রয়েছে লেসার চালিত ‘হানিওয়েল নেভিগেশন সিস্টেম’, যা খারাপ আবহাওয়ায়ও বিমানটিকে সঠিক পথে চালিত করে। শুধু কী তাই, আক্রমণ করার সময় শত্রুপক্ষের রাডারব্যবস্থা জ্যাম করে দেওয়ার জন্য এর রয়েছে ‘ওয়েস্টিং হাউজ এয়ারবোর্ন সেলফ প্রোটেকশন জ্যামার’। টমক্যাটে রয়েছে প্রোগ্রামেবল ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসর, যার মাধ্যমে এটি নিজের পক্ষের মূল রাডারকে বিভিন্ন তথ্য পাঠিয়ে সহায়তা করতে পারে। আরো আছে বিমান চালকের জীবন রক্ষার জন্য ইজেকটর সিট। এই সিট বা আসনটি সুইচ চালু করা মাত্রই বিমান চালককে বিমান থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছুড়ে দেবে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, দুজন বিমানচালকের অজান্তে কোনো শত্রু যাতে অতর্কিতে আঘাত হানতে না পারে সেজন্য বিপদজ্ঞাপক যন্ত্রও আছে এতে। এতসব গুণের কথা চিন্তা করে যুদ্ধবিমান বিশেষজ্ঞরা টমক্যাটকে ‘এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার’ নামেও অভিহিত করেছেন।     

প্রদীপ সাহা