ইত্তেপাক রিপোর্ট
দেশ খাদ্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও, খাদ্যের নিরাপদ মান উন্নয়নে কার্যক্রম ও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের ভাষায়, অনেকে জৈব উপায়ে কৃষি উত্পাদন করলেও, ভোক্তারা মান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। জৈব কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর উত্পাদন ও বাজার আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অনিরাপদ খাদ্য উত্পাদন ও বাজারজাত নিয়ন্ত্রণ করতে সকল খাদ্য ও পানীয় নিয়মিত পরীক্ষা ও জনসম্মুখে তা প্রকাশ করা জরুরি। ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা না হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা দুরুহ।
জনস্বাস্থ্য ও রপ্তানি বৃদ্ধির স্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সব খাদ্য ও পানীয় নিয়মিত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা দরকার। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জনস্বাস্থ্য ও রফতানি বৃদ্ধির স্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাসফ ও বারসিকসহ ১৪টি সংগঠন যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট ও দুর্যোগপূর্ণ দেশ হলেও বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে ধান, মাছ ও সবজি উত্পাদনে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর কাছাকাছি চলে এসেছে। প্রচলিত ও প্রায় অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকভিত্তিক উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার দাপটে জৈব কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও জৈব কৃষির উত্পাদন ও বাজার আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফসলে কীটনাশকের ব্যাপক অপপ্রয়োগ এবং মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারে খাদ্য দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মজুতদার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা খাদ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক তথা ফরমালিন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, ইথোফেন, কীটনাশক, কাপড়ের রং, পোড়া তেল ও মবিল মিশ্রিত তেলসহ নানা রকম ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপকরণ, হরমোন এবং এন্টিবায়োটিক খাদ্যে মিশানো হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যেও নানা ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক মিশানো হচ্ছে। ফলে প্রায় সব খাদ্য ও পানীয়তে বিষাক্ত রাসায়নিক পর্দাথের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, মানবস্বাস্থ্যসহ অন্যান্য প্রাণবৈচিত্র্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। জমিতে ব্যবহূত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে তা শেষ পর্যন্ত জলাশয়ের পানিতে গিয়ে মিশছে। এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছের বৈচিত্র্য। পাশাপাশি জলজ জীব ও জলচর পাখিদের জন্যও খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ)-এর সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদক ফেরদৌস আহম্মেদ উজ্জ্বল, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের মহাসচিব মাহাবুল হক, বিডিক্লিক এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, সামাজিক আন্দোলন সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হুমায়ন কবির হিরু, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট সাইক্লিংয়ের সমন্বয়ক রোজিনা আক্তার, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান, গ্রিনফোর্সের আহসান হাবিব, বাংলাদেশ যুব সমিতির সভাপতি মো. আক্তার হোসেন, বাংলাদেশ বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাওলাদার প্রমুখ। মনববন্ধন সঞ্চালনা করেন, পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ।
