‘এসআই বলেন চেয়ারম্যানের কাছে যেতে, চেয়ারম্যান দেখান থানা’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৬

সিংগাইরে গ্রাম্য সালিশে বিচারপ্রার্থীকে মারধর

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিংগাইরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে এক সংখ্যালঘু পরিবারের তিন সদস্যকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় সাত দিন অতিবাহিত হলেও বিচার পায়নি ঐ পরিবার। ফলে তারা চরম আতঙ্কে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলাম নগর গ্রামের ৭৬ বছরের বৃদ্ধ সূর্য্য মোহন সরকার ও তার স্ত্রী গীতা রানী জানান, ‘প্রতিবেশী মিজান, তার ভাই সোহেল, ভুট্টু ও ভাতিজা মিঠু পেশীশক্তি ব্যবহার করে জোর করে তাদের বাড়ির সীমানা থেকে গাছ কেটে নেয়। এ ব্যাপারে  ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইলে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতেই বিচার সালিশ বসে। তবে চেয়ারম্যান বিচারে উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাঈদ মোল্যা, সামাদ মাস্টার, ব্যাংকার আমিনসহ গ্রামের মাদবরগণ।

উভয় পক্ষের জবানবন্দির সময়ে মাদবরদের উপস্থিতিতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এ সব সন্ত্রাসীরা তার ছেলে সুজনকে প্রচণ্ডভাবে মারধর করে। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে  তাদেরও ঘরের ভেতরে ঢুকেই রক্তাক্ত করা হয়। তিন জনই উপজেলা স্বান্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ ব্যাপারে জিডি করতে গেলে থানার এসআই এসে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাদের জবানবন্দি নেন। কিন্তু ঘটনার সাত দিন হয়ে গেলও বিচার পেলাম না। অন্যদিকে মাদবরদের বাইরেও যেতে পারছি না।’ গীতা রানী ও তার মেয়ে মনিকা জানান, পাশের এই পরিবারটি অনেক দিন ধরেই অত্যাচার করে আসছে। বাড়ির ওপর দিয়ে তাদের তিনটি মোটরসাইকেল আসা যাওয়া করে। গাছ কেটে নিচ্ছে। কিছু বলতে গেলেই দা দেখানো হয় আমাদের। ওদের ভয়ে সব অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন থাকতে পারব। গৃহকর্তার ছেলে সুজন জানান, ‘থানায় জিডি করতে এসআইকে টাকাও দিলাম। জিডি এন্ট্রি হলো না। আসামিও ধরল না। এসআই বলেন চেয়ারম্যানের কাছে যেতে, চেয়ারম্যান দেখান থানা। 

চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, বিচারের মাঝখানে তাদের বাড়িতেই এভাবে মারা ঠিক হয়নি। দারোগা তদন্ত করে সাক্ষী নিয়ে গেছেন। বললাম ব্যবস্থা নিতে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। দারোগা চাপ না দেওয়ায় ওরা এখন বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনির বলেন, ছুটিতে আছি। তাই সেখানে যাওয়া হয়নি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক না। ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, ‘উভয়কেই মুখোমুখি করা হবে। সত্যতা মিললে এসআইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’