সাতক্ষীরায় বাঁধ ভেঙে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৭

খোলপেটুয়া নদী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বিকল্প রিংবাঁধ ভেঙে আবারও পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জোয়ারের সময় প্রতাপনগর মানিক হাওলাদারের বাড়ির উত্তর পাশের বিকল্প রিংবাঁধ ভেঙে যায়। প্রথমে বাঁধের অল্প জায়গায় ফাটল ধরে। পরে ফাটলটি বড় আকার ধারণ করে প্রায় ১০০ ফুট ভেঙে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, প্রবল জোয়ারের চাপে খোলপেটুয়া নদী বন্যাতলা নামক স্থান থেকে রিংবাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রতাপনগর তালতলা, মাদার বাডড়িয়া, কুড়িকাহনিয়া, কল্যাণপুরসহ পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকার মধ্যে প্রতাপনগর পশ্চিম, মাদার বাড়িয়া গ্রামের কয়েকশ বিঘার মত্স্য ঘের তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে কয়েকশ পরিবারের বসতবাড়িও। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিকল্প রিংবাঁধের ভাঙন পয়েন্টটি আটকাতে কাজ চলছে। শনিবারের মধ্যে ভাঙন পয়েন্টটি আটকানো সম্ভব না হলে সম্পূর্ণ প্রতাপনগর ইউনিয়নটি আবারও পানিতে তলিয়ে যাবে। তিনি বানভাসি ভুক্তভোগী অসহায় মানুষের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প রিংবাঁধ আটকাতে ও রিংবাঁধ টিকিয়ে রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, আনুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, আমার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধগুলো দীর্ঘদিন যাবত্ দুর্বল অবস্থায় আছে। প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জোয়ারের কারণে দুর্বল বাঁধগুলো ভেঙে গিয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জোয়ারের কারণে এই রিংবাঁধটি ভেঙে গিয়ে ঐ এলাকার প্রায় ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শিগগির এই বাঁধ সংস্কার না হলে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, রিংবাঁধটি জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। দ্রুত বাঁধটি মেরামতের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।