বন্দরের প্রস্তাবে শিপিং এজেন্টদের আপত্তি

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩০

জাহাজে পণ্য ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বাবদ বিল বৃদ্ধির বিষয়ে বন্দরের একটি কমিটির প্রস্তাবে আপত্তি দিয়েছে শিপিং এজেন্টরা। সংগঠনটির দাবি, শ্রমিক মজুরি ১০ শতাংশ বাড়লেও শিপিং এজেন্টদের বিল এত বেশি বাড়ার কথা নয়। এ নিয়ে আবারও বৈঠক ডেকেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাল সোমবার বন্দর ভবনে দুই পক্ষের সঙ্গে এই বৈঠক করবে বন্দর। বৈঠকে শ্রমিক মজুরি বাড়ার কারণে শিপিং এজেন্টদের বিল কত বাড়বে তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

শিপিং এজেন্টরা বর্তমানে প্রতি বছর কনটেইনারে ৪ শতাংশ এবং বাল্ক কার্গোর ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ হারে বর্ধিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। শ্রমিক মজুরি প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিপিং এজেন্টরা হ্যান্ডলিং বিলবাবদ এই অর্থ বার্থ অপারেটরদের পরিশোধ করে আসছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল শিপিং এজেন্টরা।

শিপিং এজেন্টরা খরচ হিসাব করে দেখিয়েছেন, শ্রমিক মজুরি ১০ শতাংশ বাড়লে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বাবদ বছরে শিপিং এজেন্টদের বিল বাড়ার কথা ১ দশমিক ৬ শতাংশ। বাল্ক কার্গোর ক্ষেত্রে এই হার হওয়ার কথা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে বন্দরের কমিটি সুপারিশ করেছে, কন্টেইনারে শিপিং এজেন্টদের বিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে। বাল্ক কার্গোর ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্ট বা আমদানিকারকদের বিল ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে। অর্থাত্ কমিটি উলটো বিল বৃদ্ধির হার আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।                 বন্দর শ্রমিক মজুরি হিসাব করার সময় শ্রমিকদের সব সুযোগসুবিধাও আওতায় এনেছে। মজুরির মধ্যে এই বিষয়গুলো আসবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, প্রকৃত মজুরি হিসাব করে খরচ কমানোর দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। বার্থ অপারেটররাও  কন্টেইনার ও পণ্যের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ এবং সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি দাবি করেনি। এখন উলটো একটি কমিটি আগের চেয়ে খরচ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, যা অযৌক্তিক। এভাবে বাড়ানো হলে বন্দর দিয়ে ব্যবসার খরচ বাড়বে। এটা ব্যবসাবাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আবার বন্দরের পরিচালকের (পরিবহন) এক আদেশে গত ৬ জুলাই জানানো হয়, দর পুনরায় নির্ধারণের আগে কন্টেইনারে ৪ শতাংশ এবং বাল্কে সাড়ে ৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করার জন্য শিপিং এজেন্টদের বলা হয়েছে। বন্দরের আশ্বাস অনুযায়ী এই হারে বিল পরিশোধ করার পর এখন বিল না কমিয়ে উলটো বাড়ানোতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে বলে শিপিং এজেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শিপিং এজেন্ট সূত্র জানায়, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বার্থ অপারেটর নিয়োগ করা হয়। বার্থ অপারেটররা বন্দর থেকে একই পণ্য ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বাবদ বন্দর থেকে যেমন টাকা পায় তেমনি শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারক থেকেও টাকা আদায় করে। অর্থাত্ বার্থ অপারেটররা একই পণ্য হ্যান্ডলিং করে তিন পক্ষের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে।

আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টরা জানান, মজুরি বাড়ানোর নামে শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকদের থেকে বিল বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শিপিং এজেন্ট বিল পরিশোধ করলেও তা ঘুরেফিরে আমদানিকারকদের থেকে আদায় করা হয়। আবার আমদানিকারকেরা সরাসরি বাড়তি বিল দিলেও তা ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করে নেন। ব্যবসার খরচ বাড়লে তা ভোক্তার কাঁধেই পড়বে।