সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩০

কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের ভ্রমণের আরাধ্য স্থান প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। পর্যটক আনা-নেওয়া করতে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌ রুটে জাহাজ নামানোর উদ্যোগ শুরু করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নামতে স্থাপিত একমাত্র জেটির বেহাল দশা। চলতি বছরে এখানে পর্যটক আনা-নেওয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবহেলায় ভাঙছে দ্বীপের চারপাশ। সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানও। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেন্ট মার্টিন নৌপথে চালানো একাধিক জাহাজের পরিচালক পর্যটন উদ্যোক্তা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, গেল কয়েকটি বছরে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়-জ্বলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে সেন্ট মার্টিন জেটির অনেকাংশ ভেঙে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে পন্টুন। সর্বশেষ গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেটির আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি জেটির পাশে ট্রলার ভেড়ানোর অংশ পর্যন্ত ভেঙে গেছে, যে কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেটি। কিন্তু দ্বীপকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছেন। ‘হেমন্ত, শীত ও বসন্ত’—এই সময়টাতেই দ্বীপে পর্যটন মৌসুম। সামনে মৌসুম শুরুর তোড়জোড় চলছে, কিন্তু জেটির বেহাল দশার কারণে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা। প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে রক্ষাবাঁধসহ বিধ্বস্ত জেটিটি অবিলম্বে সংস্কার জরুরি। না হলে পর্যটন খাতে জড়িত অন্তত অর্ধলক্ষ    মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

 জেটি সংস্কারের দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজারের জেলা সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ আরো বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক পারাপারে ৮-১০টি জাহাজ, ২০০-৩০০ বাস-মিনিবাস, শতাধিক মাইক্রোবাস, আবাসন সেবায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজ। রয়েছে শতাধিক রেস্তোরাঁ, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ ট্যুরিস্ট গাইড। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ৫০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা সেন্ট মার্টিনকে ঘিরে পরিচালিত হয়। বছরে মাত্র পাঁচ-ছয় মাসের ব্যবসার আয়ের টাকায় ১২ মাস চলেন দ্বীপের বাসিন্দা ও উদ্যোক্তারা, যা সেন্ট মার্টিন জেটিকে ঘিরেই পরিচালিত। অনেক দিন জেটিটি সংস্কার করা হয়নি। কিন্তু  দ্বীপের প্রবেশদ্বার জেটি ছাড়া দ্বীপ একেবারে অচল। আর আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জেটির মেরামত করা না গেলে পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এই খাতে সম্পৃক্ত প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।

সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উপদেষ্টা এম এ হাসিব বাদল, এস এম কিবরিয়া খান, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তোহা, সহসভাপতি ইফতিকার আহমদ চৌধুরী, এস এ কাজল, নুরুল আলম রনি ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আল আমীন বিশ্বাস তুষার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিভিন্ন পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানসংশিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, দ্বীপের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে জেটি ব্যবহার করে উন্নত চিকিত্সার জন্য টেকনাফে যাওয়া কঠিন। দ্বীপবাসী তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য আনা-নেওয়া করতে পারে না। জেটির কারণে দ্বীপের লোকজন মারাত্মক ক্ষতি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেটি পারাপার কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কারণে সরকারি কাজগুলো করা না গেলেও রহস্যজনক কারণে বেসরকারি স্থাপনা ঠিকই উঠছে। অথচ এখানে নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নানা দপ্তর কাজ করে। জরুরি প্রয়োজনে আসা-যাওয়ায় এসব সংস্থাও ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনসের জেটিটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন। এটি প্রতি অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। বর্তমানে এটি নিলাম হয়েছে ১ কোটি ২২ হাজার টাকায়। এর আগে ৭০, ৮০, ৯০ লাখ—এভাবে নিলাম হয়েছে। জেটিটি অনেক আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। অথচ এটি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় হলেও আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন জেটি স্থাপনে হাত দিতে পারছি না। জেটিটি সংস্কারে আদেশ পেতে চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। ৪২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া আছে। নির্দেশনা এলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে সেন্ট মার্টিনসে একটি অত্যাধুনিক জেটি নির্মাণের উদ্যোগ হাতে নেব। আমাদের ফান্ড রয়েছে।’