টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর জোনাল অফিস গোড়াই শিল্পাঞ্চল ও টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ মির্জাপুর জোনাল অফিস এরিয়ায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। মাত্র কয়েক দিনে শতাধিক মিটার চুরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতারক চক্র মিটার চুরির পর মিটারের বাক্সে চিরকুটে লিখে যাচ্ছে—‘মিটার ফেরত পেতে হলে নিম্নের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করুন।’ এরপর যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে চোরেরা। টাকা দিয়ে অনেকে মিটার ফেরতও পেয়েছেন। শনিবার পল্লী বিদ্যুত্ জোনাল অফিস গোড়াই ও মির্জাপুর এবং মির্জাপুর থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও মিটার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পল্লী বিদ্যুত্ অফিস সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর গোড়াই জোনাল অফিস এবং টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ মির্জাপুর জোনাল অফিস এরিয়ার অধীনে গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে মির্জাপুর অফিসের আওতায় ৯০ হাজার এবং গোড়াই অফিসের আওতায় ৮০ হাজার। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী করোনা মহামারির কারণে এমনিতেই পল্লী বিদ্যুত্ মিটার গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিলের কারণে নাভিশ্বাস উঠেছে। তার ওপর একের পর এক মিটার চুরির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকেরা। এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।
গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া এলাকার শওকত হোসেন, আসান উদ্দিন, করিম মিয়া, ওয়াজেদ মিয়াসহ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ চোরের দল শিল্প মিটার, বাণিজ্যিক মিটার ও ফ্ল্যাট বাড়ির মালিকদের আবাসিক মিটার টার্গেট করে রাতের আঁধারে মিটার চুরি করে নিয়ে যায়। মিটার চুরির পর সেটির বাক্সে চিরকুটে মোবাইল নম্বর লিখে যায়। মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিলে মিটার ফেরত পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগী অনেক গ্রাহক মোবাইল নম্বরে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে মিটার ফেরত নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত ঈদের পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ফরিদ মিয়ার একটি, কানু মিয়ার একটি, নজরুল মিয়ার একটি, কদিম ধল্যা এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার দুটি, কুমারজানি গ্রামের কাশেম মিয়ার একটিসহ শতাধিক মিটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে প্রতিনিয়তই মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মিটার চুরি হচ্ছে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে। সংঘবদ্ধ মিটার চোর চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর গোড়াই জোনাল অফিসের (ডিজিএম) মো. নুরুন্নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় তারা বিব্রত হয়ে পড়েছেন। একটি শক্তিশালী চক্র মিটার চুরির সঙ্গে জড়িত বলে তাদের ধারণা। মিটার চুরির ব্যাপারে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানার পুলিশ ও টাঙ্গাইল র্যাব-১২কে জানানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে তারা কাজ করছে।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর মির্জাপুর জোনাল অফিসের (এজিএম কম) মো. আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সাত জন গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তারা থানার পুলিশ ও টাঙ্গাইল র্যাব-১২কে জানিয়েছেন। মোবাইল ট্র্যাকিং করে ইতিমধ্যে সাভার এলাকা থেকে র্যাব সদস্যরা একজন মিটার চোরকে আটক করেছেন বলে জানতে পেরেছেন তারা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রুবেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুত্ বিভাগ এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার চুরির বিষয়ে অভিযোগ এবং কিছু মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। মিটার চুরির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
