চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা পাবে। কিন্তু এসব অর্থ আদায়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বিপুল পরিমাণ গ্যাস বিল বকেয়া রেখে মাসের পর মাস সংযোগ অব্যাহত রেখেছেন খেলাপি গ্রাহকরা। কোম্পানির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তারা বকেয়া পরিশোধের জন্য এলাকায় মাইকিং করছেন, মৌখিকভাবে তাগাদা দিচ্ছেন।
দেশে তিতাসের পর কর্ণফুলী সবচেয়ে বড় গ্যাস বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিতে গ্যাস চুরি ও বিপুল পরিমাণ বকেয়ার কারণে মন্ত্রণালয় অসন্তুষ্ট। বারবার তাগাদা দেওয়ায় পরও বন্ধ হচ্ছে না গ্যাস চুরি ও পুঞ্জিভূত বকেয়া আদায়।
সূত্র জানায়, বকেয়া বিলের তালিকায় বেসরকারি বাণিজ্যিক, শিল্পকারখানা ও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোম্পানির নীতিমালায় উল্লেখ আছে বিল বকেয়া ৪৫ দিনের বেশি হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। কিন্তু দেখা গেছে অনেক খেলাপি গ্রাহক মাসের পর মাস এমন কি বছর পেরিয়ে গেলেও বিল বকেয়া রেখে গ্যাস ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির রাজস্ব বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে লুকোচুরি চলছে। প্রতিষ্ঠানের এমডি থেকে রাজস্ব ও বিপণন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা মিডিয়ার কাছে তথ্য প্রদান করে না।
যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এমডি প্রথমে বকেয়া বিলের তথ্য দেওয়ার জন্য আশ্বাস দিলেও পরে টালবাহানা শুরু করেন। মোবাইল ফোনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মাজেদ বকেয়া বিলের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোম্পানি এলাকাকে তিনটি জোনে ভাগ করে রাজস্ব আদায় করা হয়। রাজস্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকাশ কুমার রায় বলেন, খেলাপি গ্রাহকদের বিল পরিশোধের জন্য আমরা এলাকায় মাইকিং করছি। ৪৫ দিনের পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নিয়ম রয়েছে। তার পরও আমরা গ্রাহকদের চার-পাঁচ মাস পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের সময় দিচ্ছি। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়ার আগেও টেলিফোনে খেলাপি গ্রাহককে বকেয়া পরিশোধের জন্য বলা হয়।
রাজস্ব বিভাগের অপর ব্যবস্থাপক শাহ আলম মোল্লা বলেন, আমার এলাকাটা শহরের অনেকটা বাইরে। আবাসিক, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। এলাকায় বকেয়া পরিশোধের জন্য মাইকিং করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে দেদারসে গ্যাস চুরি হচ্ছে। শিল্পকারখানায় অনুমোদিত লোডের বেশি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। ভিজিল্যান্স টিমের অভিযানে শিল্পকারখানায় এধরনের গ্যাস চুরির প্রমাণ মিলছে। গত প্রায় ১০ বছর যাবত্ আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেও নতুন সংযোগ পাচ্ছে না।
এছাড়া ভুয়া বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের স্তূপ পড়ছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত’ কমিটি রয়েছে। প্রতি মাসে কমিটির কাছে গ্রাহকদের প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিতে বকেয়া আদায়ে ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা ভিজিল্যান্স বিভাগ রয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ভিজিল্যান্স বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আবাসিক খাতে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বেশি গ্যাস চুরি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ধিত ভবনে নতুন চুলায় সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছি।
