আফগানিস্তানে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বাতিল করেছে তালেবান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য ইনামুল্লাহ সামঙ্গানি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, নতুন সরকারের অনুষ্ঠান আপাতত বাতিল করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার একাংশের ঘোষণার পর তা কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে, তালেবান খরচ বাঁচানোর জন্য শপথ অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বলে দাবি করেছে। তবে কিছু গণমাধ্যম বলছে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তির দিনে শপথ অনুষ্ঠান বাতিলে বাধ্য হয়েছে তালেবান। এদিকে আফগানিস্তানে বিক্ষোভ দমনে তালেবানের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার নিন্দা করেছে জাতিসংঘ।
খবরে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তির দিনটিকে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিয়েছিল তালেবানের শীর্ষ নেতারা। শপথ অনুষ্ঠানে রাশিয়া, চীন, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, ভারত ও ইরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কিছু গণমাধ্যম বলছে, রাশিয়া কাতারকে জানিয়ে দেয় ৯/১১ হামলার বার্ষিকীতে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন হলে অংশ নেবে না মস্কো। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সদস্য দেশও কাতারকে চাপ দিচ্ছিল যে এই দিনে আফগানিস্তানের নতুন সরকারের কোনো শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন না হয়। এটা হলে তালেবানের আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে। এরপরই শপথ অনুষ্ঠান বাতিল করেছে তালেবান। রাজধানী কাবুল দখলের প্রায় তিন সপ্তাহ পর গত সপ্তাহে ৩৩ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঘোষণা করে তালেবান।
বিক্ষোভ দমনে তালেবানের নিষ্ঠুরতার নিন্দা জাতিসংঘের
আফগানিস্তানে বিক্ষোভ দমনে তালেবানের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার নিন্দা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তালেবানের হাতে অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। গত ১৫ আগস্ট কাবুলের পতনের পর থেকে আফগানিস্তানে নানা ইস্যুতে বিক্ষোভ চলছে। আর এ বিক্ষোভ দমনে তালেবান গোলা বারুদ ব্যবহার করছে। সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, যারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছে এবং সাংবাদিকরা যারা সেটি কাভার করছে তাদের বন্দি করা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য তালেবানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এদিকে শুক্রবারই জাতিসংঘ খাদ্য সংস্থা বলেছে, আফগানিস্তানে ৯৩ শতাংশ বাড়িঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। খরার কারণে খাদ্য সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে দেশটি কয়েক মাসের মধ্যে দারিদ্রের মুখোমুখি হতে পারে। আবার ইউনিসেফ শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছে।
