চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে প্রকাশ্য দিবালোকে জনতার সহায়তায় একজন ইউপি সদস্যসহ তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের মধ্যে ১৬টি মামলার ফেরারি আসামি সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহেদুল ইসলাম সিকদারও রয়েছে।
এসময় স্থানীয় জনতা ডাকাতদের কাছ থেকে দেশি একটি শর্টগান বন্দুক উদ্ধার করেন। পরে তিন ডাকাতকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এরমধ্যে ধৃত ইউপি সদস্য জাহেদুল ইসলামকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছায়রাখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত ডাকাতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. ইমরান (২৬), সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর এলাকার মৃত মনুর আলম সিকদার ছেলে ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জাহেদুল ইসলাম (৪০) ও চিরিংগা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর এলাকার মোজাহের আহমদের ছেলে আবদুস ছবুর (৩৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছায়রাখালী এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের জাহেদ মেম্বারের নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে বেশ কয়েক জন ডাকাত ঐ এলাকায় মহড়া দিলে স্থানীয় লোকজনের কাছে দৃষ্টিগোচর হয়। পরে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ঐ ডাকাতদের গতিরোধ করে ধাওয়া করলে তিন ডাকাতকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় জাহেদ মেম্বার গুরুতর আহত হন।
মানিকপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, জাহেদ মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সুরাজপুর-মানিকপুর এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কায়দায় বনবিভাগের জায়গা জবর-দখলসহ নানা ধরনের অপকর্ম করে আসছে। সমপ্রতি এলাকায় কয়েকটি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলেও তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও নেয়নি কোনো ধরনের মামলা। এতে ভুক্তভোগীরা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। গ্রেফতারকৃত জাহেদ মেম্বারের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের ঘটনায় থানা ও আদালতে ১৬টির অধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছেন থানা পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছায়রাখালী এলাকায় জাহেদ মেম্বারের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী একদল ডাকাত ডাকাতির উদ্দ্যেশ্য ঘটনাস্থলে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এসময় স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে অস্ত্রধারী ডাকাতদের ধাওয়া করে তিন ডাকাততে আটক করে গণপিঠুনি দেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাত্ক্ষণিকভাবে থানার তদন্ত কর্মকর্তা জুয়েল আহমদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ধৃত তিন ডাকাতকে অস্ত্রসহ সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। তিনি বলেন, অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
