জানিয়েছে গ্রেফতার হওয়া দুই
চোর ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী
চট্টগ্রাম অফিস
প্রতি ভরি স্বর্ণের বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা হলেও চট্টগ্রামে চোরাই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা ভরিতে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে চুরি করা স্বর্ণালংকার চোরদের কাছ থেকে অর্ধেক দামে কেনেন কিছু অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী। স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও চোর সিন্ডিকেটের দুই সদস্যসহ তিন জনকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ বিকিকিনির এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকা থেকে গ্রিল কাটার সরঞ্জামসহ মো. শরীফ ও মো. আব্দুল জলিল নামে দুই পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, তাদের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণ কেনে প্রণব ধর নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এরপর প্রণব ধরকেও পুলিশ গ্রেফতার করে।
শুক্রবার কোতোয়ালি থানার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতার হওয়া শরীফ ও জলিল পেশাদার চোর। গত প্রায় আট বছর ধরে তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৭০০র বেশি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণব ধর তাদের বিনিয়োগকারী। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরি করে পাওয়া স্বর্ণ তারা প্রণব ধরের কাছে বিক্রি করে। বর্তমানে স্বর্ণের বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা ভরি হলেও প্রণব ধর দেন ৩৫ হাজার টাকা।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, শরীফ ও জলিল অত্যন্ত দুর্ধর্ষ চোর। গত কয়েক মাসে তারা নগরীর নন্দনকানন, সিরাজউদ্দৌলাহ রোড ও রহমতগঞ্জ এলাকার তিনটি বাসা থেকে ৮১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করেছে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব চুরির কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী প্রণব ধরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রণব ধরও জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই স্বর্ণালংকার কমদামে কেনে বলে স্বীকার করেন। চোরাই স্বর্ণ কেনার পাশাপাশি সে চুরির কাজে অর্থ বিনিয়োগও করেন। শরীফ ও জলিল ইতিপূর্বে বেশ কয়েক বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করলেও জামিনে বের হয়ে আবারও চুরির কাজে জড়িয়ে পড়ে।
