ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাজেট বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে অর্থবছরের শুরুতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে বাজেট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এখন থেকে প্রতি প্রান্তিক (তিন মাস) শেষ হওয়ার পরের এক মাসের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাজেটের বড় অংশ সাধারণত শেষ দিকে বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়। শুরুর দিকে বাজেট বাস্তবায়ন যেমন ধীর হয়, তেমনি রাজস্ব আহরণের গতিও থাকে মন্থর। এই ধারা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতেও দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র দেড় শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।
অর্থ বিভাগ বলেছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন ধীর গতিতে চলে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণেও ধীর গতি থাকে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য সব খাতে ব্যয়ও কম থাকে। বিভিন্ন পরিষেবা (ইউটিলিটি বিল) পরিশোধ, মেরামত, সংরক্ষণ, নির্মাণ ও পূর্ত, মালামাল কেনা ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে অনেক সময় সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার অন্যতম কারণ হচ্ছে রাজস্ব আহরণ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা। আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করলেই অপরিকল্পিত সরকারি ঋণ এড়ানো যাবে। তখন সরকারের ঋণজনিত ব্যয়ও কমবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে দেরি হলে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা সম্পর্কিত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন, তা বিলম্বিত হয়। বিষয়টি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
