প্রস্তাবিত শিল্পনীতি নিয়ে ওয়েবিনার

রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রস্তাবিত জাতীয় শিল্পনীতিতে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের বিদ্যমান সংজ্ঞা সংশোধন করা প্রয়োজন। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য আরো সম্প্রসারণ নীতি গ্রহণ করতে হবে। নতুন শিল্পনীতিতে গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-কমার্স শিল্পের অগ্রযাত্রাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় শিল্পনীতি :ব্যক্তিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

গতকাল রবিবার আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান দেশের সিএমএসএমই খাতের যথাযথ উন্নয়নে বিদ্যমান সংজ্ঞার সংশোধনের আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে এখাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও নীতি সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি সহজতর হবে বলে তিনি মনে করেন। শিল্পনীতি তৈরিতে ভিয়েতনামের গৃহীত শিল্পনীতির অনুসরণের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং ই-কমার্স শিল্পের অগ্রযাত্রাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এলডিসি উত্তর সময়ে বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর জোরারোপ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, এমপি বলেন, জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ সমন্বয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, দক্ষ ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প প্রতিষ্ঠা, গবেষণার মাধ্যমে শিল্পখাতের দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার, সিএমএসএমই খাতের দক্ষতা উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়গুলো নতুন শিল্পনীতিতে প্রাধান্য পাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এমপি বলেন, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, পণ্যের গুণগত মান সংরক্ষণ ও মেধাসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলাসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করারই জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১-এর মূল লক্ষ্য।

ওয়েবিনারের নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ফয়েজুল আমীন বলেন, ব্যক্তিখাতের উত্কর্ষ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদের উন্নয়নের বিষয়সমূহ শিল্পনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আব্দুল মোমেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দিন মোনেম বলেন, নতুন শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করা যাবে। তিনি বিশেষ করে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ভূমি আইনকে সংশোধন ও আমূল সংস্কার এবং জমির মূল্য যৌক্তিকহারে হ্রাসকরণের প্রস্তাব করেন। এফডিআই আকর্ষণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি আরো সম্প্রসারণে নীতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা শিখা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১ হাজার ৫০০ কোটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান হতে নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ ৫ শতাংশ হারে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও স্টার্টআপ খাতে নতুন নতুন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবৃন্দ, যারা ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।