বগুড়া জেলায় ধান সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৫৮ শতাংশ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৯

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ায় বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। জেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৫৮ শতাংশ। তবে চাল সংগ্রহ অভিযানে সফলতা এসেছে। চাল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে থেকে জেলায় বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় ৩১ আগস্ট। এ বছর জেলায় ২৭ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন ধান ও ৪০ টাকা কেজি দরে ৬০ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ৩৯ টাকা কেজি দরে আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১১১ মেট্রিক টন।

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৮ শতাংশ। ৬০ হাজার ৪৯০ টন সেদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১১১ মেট্রিক টন, সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি এ টি এম আমিনুল হক বলেন, বাজারে ধানের দাম ছিল প্রতি মণ ৮৮০ টাকা। বাজারে চালের দাম ছিল গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। অথচ সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলারদের চাল দিতে হয়েছে। এতে প্রতি কেজি চালে ৫ টাকা হিসেবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে মিলারদের। ধানের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় কৃষকেরাও গুদামে ধান দেননি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, বিগত তিন মৌসুমে ধানের বাজার মূল্য অনেক বেশি। এতে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন। তবে খাদ্যনিরাপত্তা মজুত কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এবারও ধানের বাজার মূল্য বেশি থাকায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যেও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চাল সংগ্রহ অভিযান সফল করেছেন।