সরকারি গাড়ি কেনায় রাশ টানা হলো। গাড়ি কেনার টাকা ব্যবহার হবে স্বাস্থ্যসেবায়। চলতি অর্থবছরে গাড়ি কেনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আলাদা আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। এ খাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ১৫ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সমুদয় অর্থ গতকাল রবিবার অর্থ বিভাগে সমর্পণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বরাবরে ঐ অর্থ সমর্পণ করা হয়।
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যতটা সম্ভব অর্থ সাশ্রয় করা হচ্ছে। শুধু গাড়ি কেনা নয়, অন্যান্য খাতেও এ প্রচেষ্টা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ছয়টি জিপ, ১২টি কার, সাতটি মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল চারটি এবং কেবিন পিকআপ কেনার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর সম্পূর্ণ টাকা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবহারের জন্য সমর্পণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, প্রকল্প, সংস্থা, দপ্তর ও অধিদপ্তর অনুসরণ করবে এমনটাই আশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি সব ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন করা অতিজরুরি। কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশের উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে বিনিয়োগ সম্ভব।
প্রসঙ্গত, কোভিড পরিস্থিতির কারণে গেল প্রায় দেড় বছর ধরে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকছে—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে তারই ইঙ্গিত পাওয়া গেল। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের বক্তব্যেও সেটি অনেকটাই স্পষ্ট হলো।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতীতে সবসময় দুর্নীতি অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অতিসংখ্যায় গাড়ি ক্রয় ও অপব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত সত্য। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গাড়িগুলো সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বারবার তাগিদ দিয়েও এসব গাড়ি ফেরত নিতে পারে না। যখন লেখালেখি হয় তখন সবাই নড়েচড়ে বসেন। কিছুদিন পর আবার যেমন তেমন। সরকারি প্রকল্পের প্রায় ২ হাজার গাড়ির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে এগুলো সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বাসাবাড়িতে কিংবা বিভিন্ন বিলাসিতায় ব্যবহার হচ্ছে—এই অভিযোগও সত্য।
