বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গত ৪ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক শাহিবর রহমান হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সভায় বলা হয়, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড বিষয়ে কখনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সভ্য পৃথিবীর কোনো দেশের সীমান্তে এভাবে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় না। এটা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। এই ধরনের ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে সরকারের প্রতি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
স্থায়ী কমিটির সভায় নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উপহারের ঘর যারা ভেঙেছে তাদের তালিকা হাতে রয়েছে’। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে দুর্নীতিবাজদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার শামিল। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকে এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, চট্টগ্রাম পুরাতন সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানের নামে থাকা জাদুঘর সরিয়ে ফেলা হবে। প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় সভায়। বিএনপি মনে করে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর তত্কালীন সরকার সার্কিট হাউজটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা ছিল জনগণের দাবির ভিত্তিতে জিয়ার প্রতি জাতির সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন। বিএনপি নেতারা বলেন, জাদুঘর সরানোর সিদ্ধান্ত কোনোদিন জনগণ মেনে নেবে না। সম্প্রতি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিসহ দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের নিন্দা জানানো হয় সভায়। গ্রেফতারদের অবিলম্বে মুক্তি এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
