অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৮

বিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে. উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। ভালো ফলাফলের জন্য  জ্ঞান ও অনুধাবনের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   আর মনে রেখো, তোমরা যদি   উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চাও তবে এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে।

আজকে তৃতীয় অধ্যায় থেকে ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ক. অভিস্রবণ কী?

একই দ্রাবক বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।

খ. প্রস্বেদনকে কেন ‘Necessary evil’ বলা হয়?

উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি ‘Necessary evil’.

ক. প্রস্বেদন কী?

উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।

খ. ব্যাপন চাপ বলতে কী বোঝ?

উত্তর:ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপের সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অণুগুলো অধিক ঘনত্ব অঞ্চল থেকে কম ঘনত্বের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এই চাপকে ব্যাপন চাপ বলে।

ক. ব্যাপন কাকে বলে?

যে ভৌত প্রক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অণুগুলো অধিকতর ঘনত্বের স্থান হতে কম ঘনত্বের স্থানে বিস্তার লাভ করে তাকে ব্যাপন বলে।

খ. অর্ধভেদ্য পর্দা বলতে কী বোঝ?

উত্তর:যে পর্দার  ভেতর দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রবণের দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। যেমন:মাছের পটকা, ডিমের শক্ত খোলসের ভেতরের পর্দা, গোল আলু ভেতরের অংশ ইত্যাদি।

ক. প্রস্বেদন কত প্রকার?

উত্তর:প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার।

খ. অভিস্রবণ ও ব্যাপনের দুটি করে বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর:অভিস্রবণ ও ব্যাপনের দুটি করে বৈশিষ্ট্য নিচে প্রদত্ত হলো:

অভিস্রবণের  বৈশিষ্ট্য:

অভিস্রবণ প্রক্রিয়া কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে।

ভিন্ন ঘনত্বের দুটি দ্রবণের মাঝে একটি অর্ধভেদ্য পর্দা থাকতে হয়।

 ব্যাপনের  বৈশিষ্ট্য:

ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন-ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়।

ভিন্ন ঘনত্বের দুটি দ্রবণের মাঝে অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন হয় না।

ক. ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। যেমন-স্টার্চ, সেলুলোজ জিলেটিন ইত্যাদি। এসব পদার্থ তাদেরই কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণে সক্ষম। কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।

খ. উদ্ভিদের মূল কেটে ফেললে গাছ মরে যায় কেন?

উত্তর:উদ্ভিদের মূলের শীর্ষভাগ থেকে মূলরোম বের হয়ে মাটির কণার মাঝে প্রবেশ করে। আর সে মূলরোম দ্বারা উদ্ভিদ মাটির কণার ফাঁকে জমে থাকা কৈশিক পানি শোষণ করে বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু মূল কেটে ফেললে পানির অভাবে যাবতীয় বিপাকীয় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উদ্ভিদ মারা যায়।