ভেষজ : কেশরাজ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৯

 

কেশুতি নামেও পরিচিত। আরো নাম আছে—কেউতি, কালোকেশিরিয়া, কেশড়ে, কেশঠি, কোশুতি, মইরচর, খেতুয়া কালসাতার গাছ প্রভৃতি। সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় ভৃঙ্গরাজ। হিন্দিতে কেশরাজ, আবার অনেকে বলেন ভৃঙ্গরা। মনিপুরী ভাষায় এর নাম সামবাল। তামিল নাম কারিসিলাঙ্গানী, কাভান্থাকারা। মালায়েলাম ভাষায় বলা হয় কানুনি, তেলগু ভাষায় বলে গালাগারা। উড়িষা ভাষায় বলা হয় কেশরডা। নেপালিরা চেনেন ভৃঙ্গারাজ ও ভাঙ্গারি ঝার, আলি ঝার নামে।

পুরো গাছটাই ঔষধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। বর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। লতানো। শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়, বিপরীতভাবে। গাছ লম্বায় ৫০-৬০ সেন্টিমিটার—কালচে। শাখা-প্রশাখা এতটাই ভারী  যে সেগুলো নিচের দিকে হেলানো থাকে। শাখা-প্রশাখার মতো পাতাও বিপ্রতীপভাবে বের হয়। পাতা খুবই ছোট। গাঢ় সবুজ রঙের। পাতার কোল থেকে প্রশাখা বের হয়। প্রশাখার শেষ প্রান্তে দু-তিনটি ফুল  ফোটে। ফুল সাদা। বৃতি পাঁচটি, সংযুক্ত। ফুল থেকে ফল হয়। ফুল অল্প কয়েকদিনে ঝরে পড়ে ও ফল বাড়তে থাকে। ফল গাঢ় সবুজ। পটের মতো। ফলের ভেতর অতি ক্ষুদ্র বীজ। বীজের খোসা শুকনো মাটির মতো। খোসার ভেতর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কালো রঙের ত্রিকোণাকার অসংখ্য বীজ থাকে। ফল ফেটে বীজ পড়ে চারা গজায়। ফুল ও বীজ দুটোই সবুজ রঙের।

কেশরাজের পাতা, ফুল ও ফলসহ সারা অংশ বেটে রস তৈরি করে নিয়মিত কয়েকদিন মাথায় দিলে মাথা ঠান্ডা হয়, চুল পড়া বন্ধ হয়, চুল লম্বা ও কালো হয়। শরীরের কেটে যাওয়া স্থানে পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে লাগালে সঙ্গে সঙ্গে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায়।

সিদ্দিকুর রহমান