রোমান্টিক চলচ্চিত্রের অনবদ্য চিত্রনায়ক হিসেবে রিয়াজ এদেশীয় চলচ্চিত্রের এক ঈর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘদিন দাপিয়ে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রের এই সুপারস্টার নিজের ব্যবসায়িক ব্যস্ততা সামলিয়ে সম্প্রতি একটি ছবির কাজ শেষ করলেন। হাতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কাজ। নিজের অভিনয় ভাবনা, শিল্পী সমিতির নির্বাচনসহ চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন
এ এম রুবেল
নতুন ছবির খবর জানতে চাই—
‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবিটির কাজ শেষ করেছি। যেকোনো উত্সবে হয়তো ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কাজ নভেম্বর নাগাদ আবারো ইনশাল্লাহ শুরু হবে। আর নাটকের কাজ আপাতত করছি না। কারণ ভালো কোনো স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি না।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এরইমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন শাকিব, নিপুণের সঙ্গে প্যানেল গড়ছেন। এটা কতটুকু সত্য?
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি আছে। আর আমি প্যানেল গড়ছি কী গড়ছি না সেটা নিয়ে এখনই কথা বলার কিছু নেই। তবে আমি চাই যে প্যানেলই আসুক, তারা শিল্পীদের জন্য কাজ করবে। শিল্পীদের হাতে চাল-ডাল তুলে না দিয়ে তাদের মর্যাদা ঠিক রাখবে। পাশাপাশি শিল্পীদের কাজের পরিবেশ বা ক্ষেত্র তৈরি করবে।
শিল্পীদের ভেতরে নানা সময়ই বিভেদ লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচন এলে সেটা বেশি চোখে পড়ে। এমন অবস্থা কেন তৈরি হয়েছে?
শিল্পীদের ভেতরে তো আমি কোনো বিভেদ দেখি না। শিল্পী সমিতি তো একটা অলাভজনক সংগঠন। তবে আমি লক্ষ্য করছি যে, দিনদিন কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, ভালো ছবি হচ্ছে না, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি বেশি হচ্ছে। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে এত হইচই না করে সবারই ভালো কাজের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।
এক সময়ের তুমুল ব্যস্ততায় কেটেছে দিন। সেই আপনাকে পর্দায় কম পাই—
দীর্ঘদিন আমি ভ্যারাইটিস কাজ করেছি। তবে আমি বিগত ৮-১০ বছর ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত। কারণ আমি আমার নিজস্ব ব্যবসাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। একজন প্রাক্তন সুপারস্টারের অভাবে মরার চেয়ে যুদ্ধ করতে করতে মরাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তবে অভিনয় করব না সেটা বলছি না। সেই রকম পরিচালক, ভালো গল্প-চরিত্র পেলে নিশ্চয় কাজ করব। অভিনয় তো শুধু টাকার জন্য করি না, এটা মনের ক্ষুদা মেটায়।
কিন্তু সিনিয়ররা এভাবে নিজেকে দূরে রাখলে চলচ্চিত্র আরো মেধ্যশূন্য হয়ে পড়বে না?
দুেখন, দূরে সরে যাচ্ছি বা গেছি, এটা ঠিক না। চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই আছে। কিন্তু সিস্টেম বা কোনো একটা কিছু আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আমাদের বিবেকবোধ, সম্মানবোধের জায়গা ঠিক রাখতেই হয়তো কিছুটা দূরে সরে আছি।
ওটিটি মাধ্যমটি চলচ্চিত্র সংকট কতটা দূর করতে পারবে বলে মনে করছেন?
সংস্কৃতি বা শিল্পকর্ম একটা ভিন্ন জিনিস। এই শিল্পকে প্রকাশের জন্য নানা সময়েই প্লাটফর্ম পরিবর্তন হয়েছে। এটা যুগের দাবি, পরিবর্তন হবেই। কিন্তু মাধ্যম পরিবর্তন হলেও শিল্পকর্মটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে মাধ্যমের চেয়ে শিল্পকর্মটির কতটা পরিবর্তন হয়েছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি করলে হলে দিলে চলবে, ওটিটিতে দিলেও চলবে।
এই মাধ্যমে আপনাদের কাজের স্বাধীনতা কতটুকু থাকবে বলে মনে করেন?
দেখুন, এরইমধ্যে কিন্তু এই মাধ্যমটির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। কারণ সেন্সরশিপ তো থাকতেই হবে। না হলে কিছু দুষ্ট লোক অনেককিছুর সুযোগ নেবে।
এই মাধ্যমটিতে রিয়াজের দেখা মিলবে?
ওটিটিতে কাজ করব না, এমন তো পণ করিনি। ভালো গল্প-চরিত্র পেলে অবশ্যই এই মাধ্যমটিতে আমাকে দেখা যাবে। আমি দীর্ঘদিন ওটিটি নিয়েই কাজ করছি। সময় হলেই সবাইকে বিষয়টি জানাবো।
