Åআয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস
Åসম্ভাবনাময়ী ৯ খাতে বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ থাকবে সম্মেলনে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি আকর্ষণীয় ও লাভজনক বিনিয়োগের স্থান হিসেবে তুলে ধরতে আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট সামিট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ আয়োজন করছে। সম্মেলনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে ‘আগামীর অর্থনীতির সাথে সংযোগ অথবা কানেক্টিং দি ইকোনমি অফ টুমরো’।
জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে রবিবার ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। আয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি।
জানা গেছে, বিভিন্ন বহুমুখী সম্ভাবনাময় খাতসমূহে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় ও বিদেশি বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সম্মেলনটি আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষত ৯টি প্রধান সম্ভাবনাময় খাত যেমন অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটিইএস ও ফিনটেক, চামড়াজাত পণ্য, ঔষধ, অটোমোটিভ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাট ও বস্ত্র, এফএমসিজি এবং রিটেইল ব্যবসাসমূহের বিদ্যমান সক্ষমতা ও ভবিষত্ সম্ভাবনা উক্ত সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে আলোচিত হবে। বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্ অঞ্চল যেমন আমেরিকাস, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া, এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক এবং আফ্রিকার ৫০টিরও অধিক দেশ থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান সাত দিন ধরে চলা বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সেশনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাতটি বিষয়ভিত্তিক ওয়েবিনারেরও আয়োজন করা হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, একাডেমিশিয়ান অংশগ্রহণ করবেন। দেশি-বিদেশি প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে ১৬০টিরও অধিক বিটুবি সেশনের আয়োজন থাকবে এ সম্মেলনে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআইকে সময়োপযোগী এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, কোভিডের কারণে বিশ্বে যখন কোনো সম্মেলন সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে হচ্ছে না তখন বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাকে এতগুলো দেশের মধ্যে ভার্চুয়ালি তুলে ধরার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এই সম্মেলটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, কোভিড থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছে। তিনি আরো বলেন, শুধু বিদেশি উদ্যোক্তাগণই নন বরং বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরাও এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। ব্যবসা বাণিজ্যের পরিবেশ বাংলাদেশে এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। তাই তিনি ব্যবসায়ীদের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এ বিষয়টিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, কোভিড অতিমারির সময়েও বাংলাদেশ ২০২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে ও পরিবর্তিত ভূ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতি সংস্কার এবং কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের উপর আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি পরিশেষে এই সম্মেলনের জন্য তালিকাভুক্ত দেশসমূহের ব্যবসায়ীদের নিকট অংশগ্রহণের বার্তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন।
