বর্তমানে প্রযুক্তি পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আজ এক দেশের খবর সহজেই ছড়িয়ে যায় পৃথিবীময়। প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগ ক্ষেত্রে নয়, দৈনন্দিন জীবনকেও করেছে সহজতর। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের যেমন ভালো-খারাপ দুটো দিকই থাকে, প্রযুক্তিও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এখানেই মূলত সমস্যার শুরু। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ আর মনের আবেগ, ভালোলাগা, খারাপ লাগা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের নাম প্রথমসারিতে। এছাড়া ইন্সটাগ্রাম, টুইটারসহ আরো অনেক প্ল্যাটফরম রয়েছে। আর এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায় সব বয়সি মানুষ যুক্ত। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের অনেকে রয়েছেন যারা চায় নিজেদের প্রতিভাগুলো অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে। অনেকে শেয়ার করার কারণে অনেক প্রশংসা পায়, যা তার কাজের প্রতি উত্সাহ বাড়িয়ে দেয়। আবার এমন অনেক মানুষ আছে, যারা নিরুত্সাহিত করে। কিন্তু এতেই তারা থেমে থাকে না, বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকে।
সাইবার ক্রাইম মূলত ভার্চুয়াল অপরাধ যেখানে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইমেইল ইত্যাদি) ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। গোপনে ধারণকৃত ভিডিও, অডিও, ছবি বা কোনো তথ্য ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য, ব্লাকমেইল করে টাকা আদায়ের মতো জঘন্য কাজ করা হয়। কখনো কখনো এসব ভাইরাল হয়ে যায় ফলে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। এছাড়া পর্নোগ্রাফি, জুয়াসহ আরো অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়, যা দেশের জন্য বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য হুমকির কারণ। এসবের জন্য মানুষের মনে ভার্চুয়াল জগতের প্রতি একটা ভীতি কাজ করে সর্বদা।
সাইবার ক্রাইমের আইনি বিধান ও শাস্তির বিধান থাকার পরও দরকার আরো শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজকাল দেখা যায়, যে কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে শুধু মোবাইল নাম্বার দিয়ে দুই-চারটা করে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। যার ফলে অপরাধও ঘটে খুবই সহজে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হোক বা ইমেইল অ্যাকাউন্ট হোক সাইবার ক্রাইম রুখতে হলে অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই ভেরিফাইড হওয়া জরুরি। অ্যাকাউন্ট খোলার পর এনআইডি বা জন্মসনদ কিংবা পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করে আইডিটি ভেরিভাইড করে নিলে সেখান থেকে অন্যের কোনো ব্যক্তিগত জিনিস ভাইরাল করার সাহস কেউ পাবে না। কারণ এতে অপরাধীরও আর্থসামাজিক অবস্থার অবনতি হবে। অন্যকে ব্লাকমেইল করা, মেয়েদের নাম দিয়ে আইডি খুলে অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া, পর্নোগ্রাফি বা মাদকের গ্রুপে যুক্ত থাকা, কমেন্টবক্সে যা খুশি বলা ইত্যাদি সাইবার ক্রাইম লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেশির ভাগই ঘটে থাকে ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে, যারা এই ধরনের সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত তারা সভ্য মানুষ সেজে আড়াল থেকে অন্যের জীবনকে নরক করে তোলার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি কাজ হাসিল হলেই অ্যাকাউন্ট ডিলেট করে দিয়ে থাকে তারা। কিন্তু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট যদি ভেরিফাইড করা হয়, কিংবা এক ব্যক্তি এক অ্যাকাউন্ট করা হয়, তাহলে কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সম্মানহানি করার মতো সাহস কিংবা সুযোগ পাবে না। আবার অপরাধীর নিজেরও মাদক কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো এমন কোনো গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিজের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কিন্তু এর পাশাপাশি সাইবার ক্রাইমকে নির্মূল কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো বিকল্প নেই। আর সাধারণ জনগণকেও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নিজেকে নিরাপদ রাখতে সচেতন হতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
